বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অন্ধকারে ডুবে যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (University of Chittagong)-এর কয়েকটি বিভাগ। ফলে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
বিভিন্ন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ স্টাডিজ, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারেই মোবাইলের আলো ব্যবহার করে পরীক্ষা দেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মনোবিজ্ঞান বিভাগে আইপিএস সুবিধা থাকায় সেখানে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক আলোতেই পরীক্ষা দিতে পেরেছেন।
বিশেষ করে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের GED 004 (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) কোর্সের প্রাকটিক্যাল পরীক্ষায় দেখা দেয় ভিন্ন সমস্যা। যেখানে কম্পিউটারে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের খাতায় লিখে প্রাকটিক্যাল জমা দিতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের আজ প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা ছিল। কম্পিউটারে পরীক্ষা শুরু করেছিলাম, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় শেষ পর্যন্ত খাতায় লিখে জমা দিতে হয়েছে।’
এ বিষয়ে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মেহরাব রহমান জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা জরুরি বৈঠক করেন। প্রথমে কিছু সময় অপেক্ষা করা হয়, যাতে বিদ্যুৎ ফিরে আসে কি না দেখা যায়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও করা হয়। পরে কোর্স শিক্ষক জানান, যেহেতু শিক্ষার্থীরা আংশিক কাজ শুরু করেছিল, তাই বাকি অংশ খাতায় লিখে জমা দিলেই তা গ্রহণযোগ্য হবে—এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. ইকবাল শাহীন খান বলেন, তার নিজ বিভাগেও একই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হঠাৎ প্রাকৃতিক কারণে এমন অবস্থা তৈরি হলেও নকলের কোনো সুযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। শিক্ষকেরা কঠোরভাবে পরীক্ষা তদারকি করেছেন বলেও জানান।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
