যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিভাজনমূলক বক্তব্য এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে জনপ্রিয় মার্কিন কৌতুক অভিনেতা জিমি কিমেল (Jimmy Kimmel)-কে ঘিরে। এবিসি টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে বরখাস্তের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প (Melania Trump)।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার জিমি কিমেলের শো-তে একটি স্কেচ চলাকালীন। সেখানে তিনি মেলানিয়াকে “এক্সপেক্ট্যান্ট উইডো” বা “সম্ভাব্য বিধবা” হিসেবে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।
মন্তব্যকে ঘিরে ক্ষোভ ও বরখাস্তের দাবি
এই ঘটনার তিন দিন পর ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মেলানিয়ার উপস্থিতির সময় বন্দুকধারীর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এরপর সোমবার (২৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মেলানিয়া ট্রাম্প কিমেলের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।
মেলানিয়া লেখেন, কিমেল তার কৌতুকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে “অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি”কে আরও উসকে দিচ্ছেন। তার মতে, “জিমি কিমেলের মতো ব্যক্তিরা প্রতি রাতে ঘরে ঘরে ঘৃণা ছড়ানোর সুযোগ পাওয়ার যোগ্য নন। এবিসিকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একই সুরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ডিজনি ও এবিসির উচিত অবিলম্বে জিমি কিমেলকে বরখাস্ত করা।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক
প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির পক্ষ থেকে কোনো কৌতুক অভিনেতাকে বরখাস্তের দাবি যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকারকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখে।
কিমেলের ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, সোমবার নিজের শো-তে ফিরে জিমি কিমেল তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, তার বক্তব্য ছিল শুধুমাত্র একটি “হালকা রোস্ট”, যেখানে প্রেসিডেন্ট ও মেলানিয়ার বয়সের ব্যবধান নিয়ে কৌতুক করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, তার মন্তব্যকে কোনোভাবেই সহিংসতার উসকানি হিসেবে দেখা উচিত নয়। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বন্দুক সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপট
এর আগে শনিবার হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্সদের নিয়ে আয়োজিত এক ডিনার অনুষ্ঠানে কোল টমাস অ্যালেন নামে এক যুবকের গুলিবর্ষণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ট্রাম্প ও মেলানিয়া নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হন, ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত অ্যালেনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কৌতুক, রাজনৈতিক বক্তব্য ও সহিংসতার এই জটিল মিশ্রণ যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের সীমা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


