আদালতের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগে সিলেট জেলা প্রশাসকসহ তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ

সিলেট নগরীর কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের দোকান উচ্ছেদ ও তালাবদ্ধ করার ঘটনায় আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে জেলা প্রশাসকসহ তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। ঘটনাটি ঘিরে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিক হাসানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ঘটনার পটভূমি
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ মার্চ। সেসময় কালেক্টরেট মসজিদ ট্রাস্ট ভাড়াটিয়াদের উদ্দেশে একটি নোটিশ দিয়ে জানায়, তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে দোকান খালি করতে হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হাইকোর্ট (High Court)-এ রিট দায়ের করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ মার্চ আদালত দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পরে আরও দুটি রিটের শুনানিতে উচ্ছেদ নোটিশ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

তবুও তালাবদ্ধ করার অভিযোগ
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আদালতের এসব নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ২৬ মার্চ রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দোকানগুলো তালাবদ্ধ করে শিলগালা করা হয়। এতে করে আদালতের আদেশ অমান্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

পরবর্তীতে ১ এপ্রিল দোকান মালিকরা আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আদালতের নতুন নির্দেশ
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। শুনানি শেষে আদালত সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দা পারভীন এবং এনডিসি কিশোর কুমার পালকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন।

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
এর আগে রোববার দুপুরে কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলন করে তালাবদ্ধ দোকানগুলো অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবি জানান। তারা জানান, দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকায় তাদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এই ঘটনার পর সিলেটজুড়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।