টানা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে নিজেদের ইস্পাত খাতকে টিকিয়ে রাখতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান (Iran)। দেশটি সব ধরনের ইস্পাত (স্টিল) পণ্য রপ্তানি সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে, যা কার্যকর হয়েছে ২৬ এপ্রিল থেকে—এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
ফার্স নিউজ এজেন্সি (Fars News Agency)-এর বরাতে মিডল ইস্ট আই (Middle East Eye) জানিয়েছে, ইরানের কাস্টম কর্তৃপক্ষ এক নির্দেশনায় স্ল্যাব, শিট, স্ট্রিপসহ বিভিন্ন ধরনের ইস্পাত পণ্য রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় দেশের ইস্পাত শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়ই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে তেহরান। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র (United States) এবং ইসরায়েল (Israel)-এর হামলার প্রভাবেই এই খাত প্রায় বিপর্যস্ত অবস্থায় পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক দিন আগে—৮ এপ্রিলের আগেই—ইসরায়েল দাবি করেছিল, তাদের হামলায় ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু ইস্পাত খাতই নয়, একই সময় পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং পরিবহন অবকাঠামোর ওপরও বড় ধরনের আঘাত হানা হয়, যা সামগ্রিক শিল্প ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পে এমন বড় ধাক্কা ইরানের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে বটে, তবে এতে বৈদেশিক আয়ের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় তেহরানকে এখন কঠিন সমীকরণের মধ্য দিয়ে এগোতে হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


