স্নাতক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা ফ্রি করার ঘোষণা, সংসদে বড় প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

নারীদের শিক্ষায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। তিনি জানিয়েছেন, স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। বক্তব্যে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছিল। এবার সেই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করে স্নাতক পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও চালু থাকবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের অঙ্গীকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি বিদ্যমান অবস্থা চান না—বরং আমূল পরিবর্তন চান। আগামী জুলাই মাস থেকে সরকার পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ব্যাগ, পোশাক ও জুতা সরবরাহ করবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের একটি সম্মানজনক ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা তুলে ধরেন। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। বলেন, এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান তৈরি করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নই এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

চলমান জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্বীকার করেন, এই সংকটে দেশের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। তবে সমস্যার সমাধানে সরকার বিরোধী দলের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে এবং একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে।

সংসদকে জনগণের অধিকার রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জবাবদিহিমূলক। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।