যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা তুঙ্গে: ইরানকে ঘিরে আবারও হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরান (Iran) ও যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং পরিস্থিতি যেন আরও জটিল হয়ে উঠছে। যুদ্ধের ৬৩তম দিনে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) পুনরায় সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধকে ‘অসহনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)। তার এই বক্তব্য পরিস্থিতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মাঠের পরিস্থিতি: আকাশে প্রতিরক্ষা, মাটিতে রক্তপাত
বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরান (Tehran)-এ হঠাৎ করেই বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ছোট ড্রোন ও আকাশযান লক্ষ্য করে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালানো হয়।

এদিকে, লেবানন (Lebanon)-এ যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইল (Israel)-এর হামলা থেমে নেই। সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৫ জন নি’\হত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে ২ শিশু ও ৫ নারী। তিনটি গ্রামে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লেবাননে দুই ইসরাইলি সেনা আ’\হত হয়েছে।

ওয়াশিংটনের বার্তা: যুদ্ধ ফের শুরু হতে পারে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পুনরায় যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের নেতৃত্ব একটি নতুন চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সিনেটে দেওয়া বক্তব্যে জানান, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭০১ জন বেসামরিক নাগরিক নি’\হত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৫৪ জন শিশু। তবে তিনি দাবি করেন, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পেন্টাগন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

একইসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ইতালি ও স্পেন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনা করছে, কারণ ওই দেশগুলো ইরানবিরোধী এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে।

আঞ্চলিক সতর্কতা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা
চলমান অস্থিরতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (United Arab Emirates) তাদের নাগরিকদের জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। দেশটি তাদের নাগরিকদের ইরান, লেবানন ও ইরাক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলেছে। যারা ইতোমধ্যে এসব দেশে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববাজারে চাপ: তেলের দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন
এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৬.৪১ ডলার, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৩.৪ শতাংশ বেড়ে ১১০.৩১ ডলারে পৌঁছেছে।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সতর্ক করে জানিয়েছেন, ইরানকে ভবিষ্যতে হুমকি হয়ে উঠতে না দিতে প্রয়োজন হলে আবারও পদক্ষেপ নিতে পারে তার দেশ।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির কোনো স্থায়ী ইঙ্গিত মিলছে না। বরং নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।

সূত্র: আল-জাজিরা (Al Jazeera)