গণনাকেন্দ্রে ঢুকতেই ফোন জব্দ—মমতা ও শুভেন্দুকে ঘিরে উত্তেজনা, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-এর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। একটি গণনাকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা (Anandabazar Patrika) জানায়, সোমবার (৪ মে) কলকাতার একটি গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের ফোন সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিয়ম অনুযায়ী, ভোট গণনার কেন্দ্রে কোনো প্রার্থী বা পর্যবেক্ষকের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ—এই বিধান কার্যকর করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্র মতে, শহরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে স্থাপিত ওই গণনাকেন্দ্রে ঢোকার সময়ই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কমিশনের নির্দেশনা মেনে তাৎক্ষণিকভাবে ফোনগুলো জমা নেন।

তবে এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কেন্দ্রের আশপাশের পরিস্থিতি। গণনাকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে বিরূপ অবস্থার মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার গাড়ির সামনে বিরোধী সমর্থকদের স্লোগানকে ঘিরে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়।

এদিকে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস (The Indian Express)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের ফলাফলকে কেন্দ্র করে কলকাতায় মমতার বাসভবনের সামনেও বিরোধী দলের সমর্থকেরা স্লোগান দেন, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।

এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা রয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট কৌশলের অংশ হিসেবে প্রতিপক্ষের ফলাফল আগে প্রচার করা হচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, কয়েকটি কেন্দ্রে গণনা প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে এবং কিছু ইভিএম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন—গণনাকেন্দ্র ছেড়ে কোথাও না যেতে এবং নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে অবস্থান করতে।

এই ঘটনাগুলো মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যেখানে নিয়ম প্রয়োগ, রাজনৈতিক অভিযোগ এবং মাঠের বাস্তবতা—সবকিছুই নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।