পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্য: তৃণমূলের দাপট, ছাপ রাখল অন্য দলও

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে একাধিক মুসলিম প্রার্থীর জয় রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্রে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং মালদার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছেন। তবে এর পাশাপাশি আইএসএফ (Indian Secular Front), কংগ্রেস, সিপিএম এবং এজেইউপির প্রার্থীরাও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।

রাজধানী কলকাতার কসবা বিধানসভা আসনে তৃণমূলের প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক জাভেদ খান (Javed Khan) আবারও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। তিনি ২০ হাজার ৯৭৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। কলকাতার আরেক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) ৫৬ হাজার ৪৯০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। মেটিয়াব্রুজ কেন্দ্রেও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী আবদুল খালেক মোল্লা—৮৭ হাজার ৮৭৯ ভোট তার ঝুলিতে।

মুর্শিদাবাদ জেলায় মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে তৃণমূলের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। জলঙ্গী কেন্দ্র থেকে বাবর আলি, হরিহরপাড়া থেকে নিয়ামত সেখ, শামশেরগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ নূর আলম, ভরতপুর থেকে মুস্তাফিজুর রহমান এবং সাগরদিঘি থেকে বায়রন বিশ্বাস জয়ী হয়েছেন। একই জেলার রেজিনগর ও নওদা কেন্দ্র থেকে এজেইউপি প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের জয়ও রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

উত্তর ২৪ পরগণায় বিদেশ দেগঙ্গা কেন্দ্র থেকে আনিসুর রহমান, হাড়োয়া থেকে আবদুল মাতিন এবং বসিরহাট উত্তর থেকে তৌসিফুর রহমান তৃণমূলের হয়ে জয়লাভ করেছেন। বসিরহাট কেন্দ্র থেকেও বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন বিজয়ী হয়েছেন, যা ওই অঞ্চলে দলটির শক্ত অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড় কেন্দ্র থেকে আইএসএফের নওসাদ সিদ্দিকী (Nausad Siddiqui)-এর জয় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ক্যানিং পূর্বে বাহারুল ইসলাম এবং মগরাহাট পশ্চিমে শামীম আহমেদ তৃণমূলের হয়ে জয় পেয়েছেন, যা দক্ষিণবঙ্গে দলটির ধারাবাহিক প্রভাবেরই প্রতিফলন।

মালদার সুজাপুর কেন্দ্র থেকে সাবিনা ইয়াসমিন এবং বীরভূমের হাসন কেন্দ্র থেকে কাজল শেখ তৃণমূলের হয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের মাহাতাব শেখ, রাণীনগর থেকে জুলফিকার আলি এবং ডোমকল কেন্দ্র থেকে সিপিএমের মোস্তাফিজুর রহমান রানা জয়লাভ করেছেন।

এছাড়াও ভগবানগোলা থেকে রেয়াত হোসেন সরকার, লালগোলা থেকে ডা. আবদুল আজিজ, সুতি থেকে ঈমানি বিশ্বাস, আখরুজ্জামান এবং মোথাবাড়ি থেকে নজরুল ইসলাম তৃণমূলের হয়ে জয় পেয়েছেন।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে মুসলিম অধ্যুষিত ও সংখ্যালঘু ভোটপ্রবণ আসনগুলোতে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের শক্তিশালী প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে একই সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আইএসএফ, কংগ্রেস, সিপিএম এবং এজেইউপির উপস্থিতি প্রমাণ করেছে—রাজ্যের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও বহুমাত্রিক এবং পরিবর্তনশীল।