দীর্ঘ নাটকীয়তা ও আইনি প্রক্রিয়ার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম (Nusrat Tabassum)-কে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সোমবার সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, নুসরাত তাবাসসুমকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি পাঠানোর পরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনকে ঘিরে শুরু থেকেই ছিল জটিলতা। একই জোটের আরেক প্রার্থী ও এনসিপির নেত্রী মনিরা শারমিন (Monira Sharmin)-এর ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংক থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে—এমন আলোচনা ২১ এপ্রিল মনোনয়ন জমার শেষ দিনে বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টার পর, প্রায় ১৯ মিনিট দেরিতে জামায়াত জোট থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়।
সময়ের পরে জমা পড়ায় শুরুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। এরপর ২৩ এপ্রিল বাছাই প্রক্রিয়ায় মনিরা শারমিনের মনোনয়নও বাতিল হয়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে।
এই অবস্থায় নুসরাত তাবাসসুম হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ২ মে পুনর্বাছাই শেষে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ৩ মে রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ প্রার্থীদের তালিকায় তার নাম প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে মনিরা শারমিনও একইভাবে হাইকোর্টে রিট করেন, যা এই পুরো প্রক্রিয়াকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে নির্বাচন কমিশন বিএনপি জোটকে ৩৬টি, স্বতন্ত্র জোটকে একটি এবং জামায়াত জোটকে ১৩টি আসন বরাদ্দ দেয়। তবে নুসরাত-মনিরার আসনটি ছাড়া বাকি ৪৯টি আসনে ৪৯ জন প্রার্থী আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন।
সবশেষে এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটিয়ে নুসরাত তাবাসসুমই হচ্ছেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০তম সংসদ সদস্য—যা এই নির্বাচনী অধ্যায়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
