রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনে নতুন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে মেট্রোরেল। চলতি মে মাসের শেষ দিকে অথবা পবিত্র ঈদুল আজহার পর থেকে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে রাতের দিকে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় মেট্রোরেল চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং পরীক্ষামূলক চলাচল সফলভাবে শেষ হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই ট্রেনের মাঝখানের ব্যবধানও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যেখানে পাঁচ মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করে, সেখানে নতুন সূচি কার্যকর হলে এই ব্যবধান কমে সাড়ে ৪ মিনিটে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (Dhaka Mass Transit Company Limited – DMTCL) সূত্রে জানা গেছে, মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী সর্বশেষ ট্রেন রাত ১১টা পর্যন্ত চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এই ট্রেন ছাড়ে রাত ১০টা ১০ মিনিটে। অন্যদিকে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী শেষ ট্রেন রাত ১০টা ১০ মিনিটে চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে এখন এটি ছাড়ে রাত সাড়ে ৯টায়।
বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী প্রথম ট্রেন প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় যাত্রা শুরু করে এবং মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী প্রথম ট্রেন ছেড়ে যায় সকাল সোয়া ৭টায়। তবে সকালবেলার সময়সূচিতে আপাতত কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রাতে দুই দিক থেকেই সময় বাড়ানোর বিষয়টি এখন পরীক্ষাধীন। কবে থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে এবং ঠিক কত সময় বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় (Ministry of Road Transport)।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছিল। তখন সকালে আধা ঘণ্টা আগে চালু করা হয় এবং রাতে শেষ ট্রেনের সময়ও আধা ঘণ্টা বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতিদিন মোট ২৯৭টি ট্রিপ পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সময়সূচি চালু হলে ট্রিপের সংখ্যা আরও বাড়বে।
চলাচলের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের ব্যবধানও কমানো হবে। এখন সপ্তাহের কর্মদিবসে ব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ারে) দুই ট্রেনের মধ্যে ব্যবধান থাকে পাঁচ মিনিট। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, তা কমে সাড়ে ৪ মিনিটে নামবে। অন্যদিকে কম ব্যস্ত সময়ে (অফপিক আওয়ারে) ট্রেন চলে ৭ থেকে ২০ মিনিট পরপর।
মেট্রোরেলের সময়সূচি পিক ও অফপিক আওয়ার অনুযায়ী ভাগ করা। ভোরবেলা অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ বিরতিতে ট্রেন চলে, অফিস সময়ে ব্যবধান কমে আসে, আবার দুপুর ও রাতে ব্যবধান কিছুটা বাড়ানো হয়। তবে বাস্তবতা বলছে, দিনের শেষে রাতের ট্রেনগুলোতেও যাত্রী ভিড় কমে না। বরং শেষ ট্রেনেও থাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী। ফলে রাতের সময় বাড়ানো হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং যাত্রীসংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন নিয়মিত যাত্রীরা।
বর্তমানে উত্তরা-মতিঝিল রুটে ২৪ সেট ট্রেন রয়েছে, প্রতিটি সেটে রয়েছে ছয়টি করে কোচ। পিক আওয়ারে ১২ সেট ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। তবে নতুন সময়সূচি চালু হলে এবং ট্রিপ সংখ্যা বাড়লে ১৪ সেট ট্রেন একসঙ্গে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএমটিসিএল কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। প্রকল্প গ্রহণের সময় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেট্রোরেল চালানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে ধাপে ধাপে সময় বাড়ানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম (Nazrul Islam) জানান, “রাতে দুই দিক থেকেই সময় বাড়ানোর বিষয়ে পরীক্ষা চলছে। কবে থেকে কার্যকর হবে এবং কত সময় বাড়বে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রথমবারের মতো মেট্রোরেল চালু হয়। শুরুতে এটি উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০২৩ সালের শেষ দিনে মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয়।
