চলচ্চিত্রকে বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করে দেব (Dev) বলেছেন, এর বিকাশ সম্ভব কেবল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্মিলিত অগ্রগতির মধ্য দিয়ে। শিল্পকে এগিয়ে নিতে বিভাজন নয়, বরং সবাইকে নিয়ে কাজ করার মানসিকতাই সবচেয়ে জরুরি—তার কথায় সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নিজের এলাকা ঘাটাল (Ghatal)-এর উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন দেব। তিনি বলেন, ‘আমি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও নতুন সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতার প্রত্যাশা করছি, যা ঘাটালের মানুষের জন্য একটি দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এবং প্রয়োজনীয়তা। রাজনীতির ঊর্ধ্বে, এটি জীবন রক্ষা, জীবিকা সুরক্ষিত করা এবং ঘাটালের মানুষকে তাদের প্রাপ্য ভবিষ্যৎ দেওয়ার বিষয়।’
দলের পরাজয় তাকে কষ্ট দিলেও, রাজ্যে এই বদলকে তাই স্বাগত জানিয়েছেন দেব। ভারতীয় গণমাধ্যমে তিনি বলেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ কাউকে ‘ব্যান’ করতে পারবে না। প্রযোজকদের উপরে নিয়মের বোঝা চাপাতে পারবে না। সুষ্ঠু ভাবে কাজ হবে। কাজের পরিমাণ বাড়বে। বাইরে থেকেও কাজ আসবে।”
এরপর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বেশ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন তিনি। দেব বলেন, ‘রাজনীতিতে আর বেশি জড়াতে চাই না। আগের মতো মন দিয়ে অভিনয়টাই করতে চাই। এটাই বরাবর করে এসেছি।’
তার আশ্বাস, ‘বরাবর ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল চেয়েছি। ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল করার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনের অনেক আগে থেকে আমার লড়াই শুরু। ভাল লাগছে, সেই লড়াই অবশেষে সফল হল। যিনি বা যাঁরা ইন্ডাস্ট্রির ভাল চাইবেন, নেপথ্যে থেকে আমি সব সময় তাঁদের পাশে।’
তবে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর পরাজয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিও ঘিরে দেবের ভক্তদের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই তাকে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার চান, তিনি যেন পুরো মনোযোগ দেন সিনেমাতেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়ার বড় অংশই মূলত ‘রাজনীতিক দেব’-কে ঘিরে, ‘অভিনেতা দেব’-কে নয়। কারণ অভিনয়জীবনে এখনও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয় এই সুপারস্টার। তার পর্দার গ্রহণযোগ্যতা, ভক্তদের আবেগ এবং বাংলা সিনেমায় তার অবস্থান—সব মিলিয়ে দেবকে এখনও আলাদা মর্যাদাতেই দেখেন দর্শকরা।


