মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ (Bangladesh)। একসময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে চলে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, ততই বদলেছে দৃশ্যপট। শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি আর তাসকিন আহমেদ-তাইজুল ইসলামের সময়োপযোগী ব্রেকথ্রুতে প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রানেই গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান (Pakistan)। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা।
৪১৩ রান করে প্রথম ইনিংস শেষ করেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে বেশ স্বস্তিতেই ছিল পাকিস্তান। তৃতীয় দিনের শুরুতেও সফরকারীদের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল বড় সংগ্রহের দিকেই এগোচ্ছে তারা। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বাংলাদেশের বোলাররা।
দিনের শুরুতেই অভিষিক্ত ওপেনার আজান আওয়াইস (Azan Awais) তুলে নেন নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ৮৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নাহিদ রানার বলে সিঙ্গেল নিয়ে ১৫৩ বলে শতক পূর্ণ করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৪টি চার। একই সঙ্গে পাকিস্তানের দলীয় রানও পৌঁছে যায় ২০০-তে।
তবে সেঞ্চুরির আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তাসকিন আহমেদের করা দারুণ এক ডেলিভারিতে স্লিপে নাজমুল হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন আওয়াইস। ১৬৫ বলে ১০৩ রান করা এই ওপেনারের বিদায়ে ভাঙে তাঁর ও আব্দুল্লাহ ফজলের ১০৪ রানের জুটি।
এরপর দ্রুতই ম্যাচের গতি নিজেদের দিকে টেনে নেয় বাংলাদেশ। তাসকিনের গতিতে ৯ রান করে ফিরে যান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। এরপর শুরু হয় মেহেদী হাসান মিরাজ (Mehidy Hasan Miraz) শো।
প্রথমে সৌদ শাকিলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। পরে ১২০ বলে ৬০ রান করা আব্দুল্লাহ ফজল মিড অনে ক্যাচ তুলে দিলে আরও চাপে পড়ে পাকিস্তান। দুই অভিষিক্ত ব্যাটসম্যানই ফিফটি পেলেও তাদের বিদায়ের পর ইনিংসের গতি হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা।
এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তারা শতরানের পার্টনারশিপ গড়ে পাকিস্তানকে তিন শ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান। রিজওয়ান করেন ৫৯ রান, আর সালমান আগা যোগ করেন ৫৮।
তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১ উইকেটে ১৭৯ রান থেকে লাঞ্চের আগেই পাকিস্তান ৫ উইকেটে ২৫১ রানে নেমে যায়। ওই সেশনে তাসকিন ও মিরাজ মিলে চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে বড় ধাক্কা দেন পাকিস্তানকে।
দ্বিতীয় সেশনে কিছুটা বাধা হয়ে আসে বৃষ্টি। নির্ধারিত সময়ের আগেই চা বিরতি ঘোষণা করা হয়। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। মাঠ শুকানোর কাজ শেষে বিকেল সোয়া চারটায় আবার খেলা শুরু হয়।
বৃষ্টি বিরতির পরও বাংলাদেশের বোলাররা ছন্দ হারাননি। তাইজুল ইসলামের বলে আউট হন রিজওয়ান। এরপর নাহিদ রানার গতির সামনে টিকতে পারেননি সালমান আগা। শেষদিকে নিজের অফ স্পিনে নোমান আলী ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন মিরাজ।
শাহিনকে ক্যাচ বানিয়ে ফেরানোর মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪তমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন এই অলরাউন্ডার। পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় ৩৮৬ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে মিরাজ একাই নেন ৫ উইকেট। তাসকিন আহমেদ (Taskin Ahmed) শিকার করেন গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট। এছাড়া তাইজুল ইসলাম নেন ২টি এবং নাহিদ রানা পান ১ উইকেট।
