ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি (Labour Party)-এর ভেতরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার (Keir Starmer)-এর নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে স্থানীয় নির্বাচনে দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর তার পদত্যাগের দাবি তুলেছেন দলীয় অন্তত ৪০ জন এমপি। এদের মধ্যে স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক মন্ত্রী জশ সিমন্স (Josh Simons)-ও রয়েছেন বলে জানিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল (Daily Mail)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ সোমবার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় নির্বাচনের হতাশাজনক ফলাফলের পর দলের ভেতরে ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক এমপি মনে করছেন, স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি সাধারণ মানুষের আস্থা হারাচ্ছে এবং সেই ক্ষোভ এখন আর শুধু নীরব অস্বস্তির পর্যায়ে নেই।
জশ সিমন্স প্রকাশ্যে স্টারমারের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। তার দাবি, দলের কমপক্ষে ৪০ জন এমপি স্টারমারের পদত্যাগের দাবিতে একমত হয়েছেন। তবে চাপ যতই বাড়ুক, স্টারমার এখনো ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে আরও দীর্ঘ সময় থাকার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন। নেতৃত্বের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি প্রস্তুত আছেন বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্টারমারের প্রতিদ্বন্দ্বীরা এরই মধ্যে নেতৃত্ব দখলের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। দলীয় রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নানা নাম আলোচনায় আসছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যানজেলা রেইনার (Angela Rayner) প্রকাশ্যে স্টারমারের নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দলকে আরও বামঘেঁষা নীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম (Andy Burnham)-কে আবার পার্লামেন্টে ফেরানোর বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, স্টারমার নেতৃত্ব হারালে তিনি নেতৃত্বের দৌড়ে নামতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, লেবার পার্টির ভেতরের ক্ষোভ আরও বাড়লে তা বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকটে রূপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক নেতা এড মিলিব্যান্ডের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আসতে পারে।
স্টারমার আজ সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন বলে জানা গেছে। অনেকের মতে, এটি তার নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ বড় চেষ্টা হয়ে উঠতে পারে। তিনি দলকে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দলীয় নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত এমপির সমর্থন না পেলে তাকে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
নতুন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্টের নামও আলোচনায় এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, স্টারমারের বক্তব্য শোনার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করবেন কি না। এদিকে লেবার পার্টির বামঘেঁষা অংশ বলছে, পর্দার আড়ালে কোনো নেতৃত্ব পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হবে না। তারা পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব প্রতিযোগিতার দাবি জানিয়েছে।
দলীয় অভ্যন্তরে ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল। প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবার পার্টি প্রায় ১ হাজার ৫০০ কাউন্সিলর পদ হারিয়েছে এবং ওয়েলসের নিয়ন্ত্রণও হাতছাড়া করেছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেত ফিলিপসন স্বীকার করেছেন, জনগণের মধ্যে লেবার সরকারের প্রতি গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কাটার মতো সিদ্ধান্ত জনসমর্থনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তবে শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


