হঠাৎ অ’\সুস্থ হয়ে লাইফ সা’\পোর্টে কারিনা কায়সার, চিকিৎসার জন্য নেওয়া হচ্ছে চেন্নাই

কয়েক দিন আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসিখুশি, প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল কারিনা কায়সার (Karina Kaiser)-এর। কনটেন্ট তৈরি, অভিনয়, চিত্রনাট্য লেখা—সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছিল তাঁর। কিন্তু হঠাৎ করেই অ’\সুস্থ হয়ে পড়েন এই তরুণী। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে যাওয়ায় এখন তিনি লাইফ সা’\পোর্টে রয়েছেন।

গুরুতর লিভার জটিলতায় আ’\ক্রান্ত কারিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সোমবার বিকেলে ভারতের চেন্নাই (Chennai) নেওয়া হচ্ছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ (Kaiser Hamid)।

কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, ‘মাত্রই ভিসা হাতে পেলাম। বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ওকে নিতে আসবে। এখানে হাসপাতালের অনেক বিল, আবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্যও বড় অঙ্কের টাকা লাগছে। আম্মার আর আমার কিছু ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙছি, একটা জমির বায়নাও করছি। আজকের মধ্যেই সব শেষ করতে হবে।’

কথাগুলো বলতে বলতেই একজন বাবার অসহায়ত্ব যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছিল তাঁর কণ্ঠে। মেয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ওকে নিরাপদে সেখানে পৌঁছানো। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারলে হয়তো একটা আশার জায়গা থাকবে। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

কারিনার শারীরিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে চিকিৎসকেরা আপাতত তাঁর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন। কায়সার হামিদ বলেন, ‘অবস্থা অপরিবর্তিত। তবে প্রেশারটা নিয়ন্ত্রণে আছে।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরেই কারিনার শারীরিক অবস্থা খারাপ যাচ্ছিল। শুরুতে বিষয়টি সাধারণ অ’\সুস্থতা মনে হলেও পরে তাঁর শরীরে সং’\ক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে তিনি হেপাটাইটিস এ-তে আ’\ক্রান্ত হন। আগে থেকেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ছিল তাঁর। পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে গত শুক্রবার তাঁর লিভার ফেই’\লিউর হলে তাঁকে লাইফ সা’\পোর্টে নেওয়া হয়।

এই সংকটের মধ্যেই বড় হয়ে উঠেছে চিকিৎসার ব্যয়। এর আগে কায়সার হামিদের এক ভাই দীর্ঘদিন ব্রেন ক্যান’\সারের চিকিৎসা নিয়েছেন। সেই সময়ও পরিবারের অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে। এখন মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাঁদের।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কারিনা সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়েও নিয়মিত হচ্ছিলেন। পাশাপাশি চিত্রনাট্য লেখার কাজও করছিলেন। তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে ইনটান্টশিপ (Intantship) ও ৩৬-২৪-৩৬ (36-24-36)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।