ফে’\ন্টানাইল মিশ্রিত নকল ওষুধ বিতরণের অভিযোগ, ভারতীয় চক্রের ১৩ জ’\নের ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভারতের একটি অনলাইন ফার্মেসির সঙ্গে যুক্ত ১৩ জ’\নের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফে’\ন্টানাইল মিশ্রিত নকল প্রেসক্রিপশন ড্রাগ বা ওষুধ বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, এই চক্রটি কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্স (KS International Traders)-এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

মঙ্গলবার (১২ মে) মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট (US State Department) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, অভিযুক্ত ১৩ জ’\ন কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্স এবং এর মালিকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। তারা ভারত থেকে এই অবৈধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের মতো অনুমোদনহীন অনলাইন ফার্মেসিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের কাছে হাজার হাজার নকল ওষুধ বিক্রি করেছে। এসব ওষুধে অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক ফে’\ন্টানাইল মেশানো ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফে’\ন্টানাইল পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থই ছিল এই চক্রের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) অতীতে ফে’\ন্টানাইলকে “গণবিধ্বংসী অস্ত্র” হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। ফলে বিষয়টির গুরুত্ব ও ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ অবৈধ মা’\দক সিন্ডিকেট নির্মূলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের যৌথ প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। যারা আমেরিকান নাগরিকদের “বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে” অথবা এমন কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত অপরাধ ও অবৈধ মা’\দক বাণিজ্য দমনে উভয় দেশের কঠোর অবস্থান এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ড্রাগ নেটওয়ার্কগুলোর জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ অনলাইন ফার্মেসির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এই ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অনলাইন ফার্মেসি কিংবা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি