মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ঘিরে ভারতে তীব্র বিক্ষোভ, ‘এনটিএ’ নিষিদ্ধ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া কেলেঙ্কারির জেরে রাজধানী নয়াদিল্লি (New Delhi) এখন উত্তাল। বিতর্কিত জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা এনটিএ (NTA) নিষিদ্ধ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে নেমেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

শনিবার (১৬ মে) ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস (Indian National Congress)-এর ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI)-এর শত শত নেতাকর্মী দিল্লির বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ‘এনটিএ’ নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাও দিন দিন তীব্র হচ্ছে।

এদিকে এই প্রশ্ন ফাঁস চক্রের তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতির দাবি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনার মূলহোতা হিসেবে পুনের রসায়ন বিষয়ের এক পরিচিত অধ্যাপক পিভি কুলকার্নিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্ন আগেই ফাঁস করা হয়েছিল।

প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা প্রকাশ্যে আসার পর গত মঙ্গলবার পরীক্ষাটি বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা। এই পরিস্থিতিতে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। উদ্ভূত সংকট সামাল দিতে আগামী ২১ জুন নতুন করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

তবে আন্দোলনরত ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু পুনঃপরীক্ষা নয়— পুরো পরীক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছে তারা।