“এক সেকেন্ডও দেরি কইরেন না”— ট্রাইব্যুনালে শোনানো হলো শেখ রেহানা ও সালমান এফ রহমানের ফোনালাপ

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের পতনের দিন দেশত্যাগের প্রেক্ষাপটে শেখ রেহানা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান (Salman F Rahman)-এর মধ্যকার একটি ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। আলোচিত ওই কথোপকথনে সালমান এফ রহমানকে দ্রুত ‘সেইফ জোনে’ চলে যাওয়ার তাগিদ দিতে শোনা যায় শেখ রেহানাকে।

সোমবার (১৮ মে) জুলাই অভ্যুত্থানে কারফিউ জারি, গণহ’\ত্যায় উসকানি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক (Anisul Huq)।

মামলায় নবম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ উপপরিদর্শক আতিকুর রহমান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal)-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ তার সাক্ষ্য রেকর্ড করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনালে প্রায় ২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ শোনানো হয়। কথোপকথনের শুরুতে কর্নেল রাজিব পরিচয় দিয়ে সালমান এফ রহমানকে জানান, শেখ রেহানা কথা বলবেন। এরপর শেখ রেহানাকে বলতে শোনা যায়, “আপনি কই?” জবাবে সালমান বলেন, “আমি আমার বাসায়।”

এরপরই শেখ রেহানা তাকে বাসায় না থাকার পরামর্শ দেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি বলেন, “এক সেকেন্ডও দেরি কইরেন না।” একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, চারদিকে “সাদা জোব্বা পরা দাড়িওয়ালা” লোকজন রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে থাকা নিরাপদ নয়।

ফোনালাপে শেখ রেহানা আরও বলেন, “আমরা অন্য জায়গায় আছি, ববি, টিউলিপ ওকে কনভিন্স করছে…”। একপর্যায়ে সালমান এফ রহমান জানতে চান, শেখ হাসিনাও অন্যত্র চলে গেছেন কি না। জবাবে শেখ রেহানা বলেন, “জি ভাই।”

কথোপকথনের সময় সালমান এফ রহমান সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে সঙ্গে নিয়ে বের হওয়ার কথাও বলেন। জবাবে শেখ রেহানা তাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পরামর্শ দেন। এছাড়া কথোপকথনে “মার্শাল ল’ ডিক্লার” প্রসঙ্গও উঠে আসে। তবে শেখ রেহানা তখন সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগের ওপর জোর দেন।

ট্রাইব্যুনালে নিজের সেই ফোনালাপ মনোযোগ দিয়ে শুনতে দেখা যায় সালমান এফ রহমানকে। এর কিছুক্ষণ আগেই কাঠগড়ায় বসে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে।

মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার (Shahidul Islam Sardar)। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সুলতান মাহমুদ, মামুনুর রশিদ, মার্জিনা রায়হানসহ অন্যরা।

এদিকে সাক্ষী আতিকুর রহমানের জবানবন্দি শেষ হলেও জেরার জন্য সময় চান আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। পরে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৮ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।