জু’\লাই গণহ’\ত্যা মামলায় জাবিরের বা’\বার জবানবন্দি, ‘আমার ছেলেকে গু’\লি করে মে’\রে ফেলা হয়েছে’

জু’\লাই গণহ’\ত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র ছেলে ও সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় (Sajeeb Wazed Joy) এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক (Junaid Ahmed Palak)-এর বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন ছয় বছরের শিশু শহীদ জাবির ইব্রাহিমের বাবা নকিব হোসেন।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (International Crimes Tribunal)-এ জবানবন্দি দেন তিনি। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে নকিব হোসেন সেদিনের ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তার বর্তমান বয়স ৫৪ বছর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর তিনি তার দুই ছেলে, এক ভাতিজা ও স্ত্রীকে নিয়ে উত্তরা স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে আনন্দ মিছিলে অংশ নেন। পরে নির্মাণাধীন একটি ফুটওভার ব্রিজে উঠে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও করছিলেন তারা।

নকিব হোসেন জানান, বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার দিক থেকে হেলমেট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল গু’\লি করতে করতে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে ছুড়তে তাদের দিকে এগিয়ে আসে। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ ছোটাছুটি শুরু করে।

তিনি বলেন, দ্রুত দুই ছেলে ও ভাতিজাকে নিয়ে নিচে নেমে আসেন তিনি। এরপর ছোট ছেলে জাবির ইব্রাহিমের হাত ধরে বাসার দিকে দৌড়াতে থাকেন। এপিবিএন হেডকোয়ার্টারের গেইটের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ তার ছেলে ‘আহ’ বলে চিৎকার করে ওঠে।

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, তখন তিনি দেখতে পান জাবিরের পেটের নিচে ঊরুতে গু’\লি লেগেছে এবং রক্ত ঝরছে। শিশু জাবির আর হাঁটতে পারছিল না। পরে তাকে কোলে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নকিব হোসেন বলেন, প্রথমে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে শিশু আইসিইউ না থাকায় পরে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও আইসিইউ খালি না থাকায় উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাবিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তার ছেলের দাফন সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নকিব হোসেন বলেন, তার ছেলে হ’\ত্যার জন্য তিনি শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের দায়ী করেন। তার দাবি, তাদের নির্দেশেই গু’\লি চালানো হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার একটি অডিও রেকর্ড তিনি শুনেছেন, যেখানে ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাস্থলে এপিবিএন, পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন নকিব হোসেন।

শেষে ছেলে হ’\ত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেন তিনি।