পদোন্নতির কয়েক ঘণ্টা পরই বাতিল, এবার সাময়িক বরখাস্ত বিমানের কর্মকর্তা মিজানুর রশীদ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস (Biman Bangladesh Airlines)-এর মহাব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রশীদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ঘটনার আগে তাকে নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিমানসংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতির মধ্যে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পদোন্নতির আদেশ বাতিল করা হয়। আর তার পরদিনই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে বিমানজুড়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়।

মঙ্গলবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস-এর প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের তদন্ত শাখা থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন এমপ্লয়িজ (সার্ভিস) রেগুলেশন্স, ১৯৭৯-এর ৫৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আগামী ২০ মে থেকে মো. মিজানুর রশীদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ (Kaiser Sohel Ahmed) স্বাক্ষরিত ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে মোহাম্মদ মিজানুর রশীদ বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন এবং তাকে বর্তমান ঠিকানায় অবস্থান করতে হবে।

চিঠিতে তার পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে ‘পি-৩৬৩৩৯, পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে।

এর আগে ১৮ মে তাকে নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি দিয়ে পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অফিস আদেশে বলা হয়, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে এ পদোন্নতি কার্যকর করা হয়েছে।

তবে আদেশ প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। বিমানসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে রাতেই আরেকটি আদেশ জারি করে পদোন্নতি ও পদায়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

বিমানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনাকাটায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এর আগেও বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হন মিজানুর রশীদ। একই অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission-ACC)-এর অনুসন্ধান এখনও চলমান রয়েছে।

এদিকে গত মার্চ মাসে তাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও বিমানের ভেতরে আলোচনা ছিল। সর্বশেষ পদোন্নতি, তাৎক্ষণিক বাতিল এবং পরদিন বরখাস্তের ঘটনায় বিমানের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।