ইউসিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আরও তিন সাক্ষীর জবানবন্দি

দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission-ACC) দায়ের করা ইউসিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের আলোচিত মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (Saifuzzaman Chowdhury Javed)সহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আরও তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

বুধবার চট্টগ্রাম (Chattogram)-এর বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইউসিবিএলের দুই কর্মকর্তা এবং আরামিট গ্রুপ (Aramit Group)-এর একজন কর্মকর্তা।

দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন জানান, সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং জেরা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আদালত আগামী ২৩ জুন মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হলো। মামলায় মোট সাক্ষীর সংখ্যা ৯৬ জন।

এর আগে গত ১১ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পাশাপাশি তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউসিবিএল ও আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

তবে মামলার শুরুতে আসামির সংখ্যা ছিল ৩১ জন। পরে তদন্ত শেষে আরও সাতজনকে যুক্ত করা হয়। এদিকে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল এবং জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী মো. দিলদার মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আরামিট গ্রুপের প্রোটোকল কর্মকর্তা ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করে ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়। সেই প্রতিষ্ঠানের নামে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএলের চট্টগ্রাম পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি গম, হলুদ, ছোলা এবং মটর আমদানির কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য টাইম লোনের আবেদন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন দেয়।

দুদকের দাবি, ঋণের অর্থ পরে আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং এবং ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামের চারটি কথিত প্রতিষ্ঠানের হিসাবে পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। এরপর অর্থগুলো নগদ উত্তোলন ও বিভিন্ন মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরবর্তীতে অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয় এবং সেই অর্থ দিয়ে সম্পত্তি ক্রয় করা হয়। পাশাপাশি জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয়।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা সংঘটিত হয়।