বলিউডের ‘ভাইজান’ খ্যাত সালমান খান (Salman Khan) আবারও স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান জানালেন। ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল মুহূর্তে তারকাদের পিছু নেওয়া এবং তা “কনটেন্ট” হিসেবে ব্যবহার করার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) মুম্বাইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে এক রোগীকে দেখতে যান সালমান খান। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় তাকে দেখতে পেয়েই ছবি ও ভিডিও ধারণে হুমড়ি খেয়ে পড়েন পাপারাজ্জিরা। ঘটনাটি মোটেও ভালোভাবে নেননি বলিউডের এই সুপারস্টার।
বিশেষ করে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে কাউকে অনুসরণ করে ক্যামেরাবন্দি করার প্রবণতাকে “অমানবিক” বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, অন্যের দুঃখ-কষ্ট বা সংকটময় মুহূর্তকে পুঁজি করে অর্থ উপার্জনের মানসিকতা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে নিজের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সালমান। তিনি লেখেন, “আমি বরাবরই সংবাদমাধ্যমের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং তাদের কাজকে সম্মান করেছি। সবসময় চেয়েছি তারা যেন নিজেদের কাজ শান্তিতে করতে পারেন। তবে অন্যের দুঃখ-কষ্টকে পুঁজি করে ব্যবসা করার এই প্রবণতা আমাকে ভীষণভাবে ব্যথিত করেছে।”
নিজের অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে সালমান খান বলেন, “কারও জীবনের চেয়ে কি একটা ছবি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? আমি ৬০ বছর বয়সে পৌঁছেছি ঠিকই, কিন্তু লড়াই করতে ভুলিনি। জেলে দিতে চাইলে দিতে পারেন।”
তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ভক্ত ও সাধারণ ব্যবহারকারী সালমানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই তারকাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করার প্রবণতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত শোকের সময় তারকাদের অনুসরণ করাকে অনেকেই সীমা লঙ্ঘন বলে মনে করেন। সালমান খানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনে দিল।


