আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল খাতের মালিকরা যে বিপুল আর্থিক সম্ভাবনার হিসাব কষছিলেন, বাস্তব পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মিলছে না। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে ব্যবসায়িক উল্লাসের যে ছবি আঁকা হয়েছিল, এখন সেখানে জায়গা করে নিচ্ছে অনিশ্চয়তা এবং হতাশা।
সম্প্রতি প্রকাশিত আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশন (American Hotel & Lodging Association)-এর ‘হোটেল আউটলুক রিপোর্ট’-এ উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল শিল্পের সামনে তৈরি হওয়া একাধিক চ্যালেঞ্জের চিত্র। চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের সময় হোটেল ব্যবসায় যে বড় উল্লম্ফনের আশা করা হয়েছিল, তার প্রতিফলন এখনো বুকিং পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে না।
জরিপে আটলান্টা (Atlanta), নিউ ইয়র্ক (New York), লস অ্যাঞ্জেলেস (Los Angeles), হিউস্টন (Houston)সহ বিভিন্ন আয়োজক শহরের হোটেল মালিকদের মতামত নেওয়া হয়। সেখানে দেখা গেছে, বৈশ্বিক দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতির যে আশা ছিল, তা এখনো বাস্তব বুকিংয়ে পরিণত হয়নি। বরং অনেক হোটেল মালিক লক্ষ্য করেছেন, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের তুলনায় দেশীয় ভ্রমণকারীদের সংখ্যাই তুলনামূলক বেশি।
এই পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি বড় কারণও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফিফার পক্ষ থেকে আগে করা বিপুলসংখ্যক রুম বুকিং বাতিল করা। পাশাপাশি অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ার কড়াকড়ি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত জটিলতা এবং সামগ্রিক ভ্রমণ ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিও বড় প্রভাব ফেলছে।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, বর্তমান বুকিং হার তাদের প্রাথমিক পূর্বাভাসের তুলনায় অনেকটাই নিচে রয়েছে। হোটেল মালিকদের ধারণা, শুরুতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত রুম ব্লক করে রাখার মাধ্যমে এক ধরনের কৃত্রিম চাহিদার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। পরে সেই অতিরিক্ত সংরক্ষণ বাতিল হওয়ার পর বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে বহু রুম এখনো খালি পড়ে আছে।
সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে কানসাস সিটি (Kansas City)-এর হোটেল বাজার। সেখানে জরিপে অংশ নেওয়া ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, বুকিং পরিস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় এতটাই দুর্বল যে তা সাধারণ সময়ের জুন কিংবা জুলাই মাসের চেয়েও নিচে নেমে গেছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ডেইড্রে ম্যাথিস (Deidre Mathis), যিনি হিউস্টনে অবস্থিত ‘ওয়ান্ডারস্টে বুটিক হোটেল’-এর মালিক। বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, টুর্নামেন্টের সময়কাল অর্থাৎ জুন ও জুলাইয়ের বুকিং গত বছরের সংখ্যাকেও ছাড়াতে পারেনি।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তাঁর হোটেলের কক্ষ পূরণের হার মাত্র ৪৫ শতাংশ, অথচ গত বছরের একই সময়ে সেটি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছিল যেন এটি বিশাল অর্থনৈতিক আলোড়ন তুলবে এবং বহু বছর ধরে মানুষ সেটি নিয়ে আলোচনা করবে। কিন্তু ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে যখন দেখা গেল ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলের বুকিংও পুরোপুরি পূর্ণ হয়নি, তখন সেটি ছিল তাদের জন্য এক বড় বিস্ময়ের মুহূর্ত।


