রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধ’\র্ষণ ও হ’\ত্যা মামলায় তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষা চলছে। আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই মামলার অভিযোগপত্র বা চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
শনিবার (২৩ মে) এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মো. আসাদুজ্জামান (Md. Asaduzzaman) বলেন, রামিসা হ’\ত্যা মামলার চার্জশিট দ্রুত দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন এবং ডিএনএ রিপোর্ট পেতে ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না বলেও আশা করা হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া চার্জশিট দাখিল করা হলে তদন্তে বড় ধরনের ভুলের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বিচারিক প্রক্রিয়ার সব ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, বিচার শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলো ঈদের আগেই শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে ঈদের পর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু করা যায়।
এদিকে নেত্রকোণা (Netrokona)-র মেঘলার ঘটনায়ও প্রয়োজনীয় বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। শিশু ধ’\র্ষণের মামলাগুলোতে উচ্চ আদালতের পেপারবুক প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি চাওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন।
বিগত সরকারের সময় গু’\মের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, গু’\ম সংক্রান্ত আইনি কাঠামো সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকার আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা দিতে চায়, তা আনুষ্ঠানিক আইনে উল্লেখ থাকুক বা না থাকুক।
তিনি আরও বলেন, সরকারি লিগ্যাল এইড (Legal Aid) কার্যক্রম আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। যদিও বর্তমানে এটি অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন দাতা সংস্থার সুপারিশের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে।
দেশের বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতার বিষয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে আপোসযোগ্য মামলাগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে সারা দেশে অন্তত ৫০ হাজার মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ করার কথাও জানান তিনি।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আইন (Anti-Discrimination Law) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো আইন যদি বৈষম্যের কারণ হয়ে থাকে, তাহলে তা বাতিল করা হবে। তবে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, তার কার্যকর প্রয়োগের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
