ইরানের কট্টর জেনারেল আহমাদ ভাহিদি এখন মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির নতুন আলোচিত মুখ

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে আহমাদ ভাহিদি (Ahmad Vahidi)-র নাম। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বর্তমানে তেহরানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন (CNN)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর তৎকালীন প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর (Mohammad Pakpour) নি’\হত হওয়ার পর আইআরজিসির নেতৃত্বে আসেন ভাহিদি। তার উত্থানকে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

আহমাদ ভাহিদিকে অনেকেই পাকপুরের চেয়েও বেশি কট্টরপন্থী হিসেবে বিবেচনা করেন। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার একটি ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বো’\মা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্টারপোল দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছে। একইসঙ্গে ইরানের বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিশেষজ্ঞ আলী ভায়েজ (Ali Vaez) বলেন, ভাহিদি অবশ্যই অত্যন্ত প্রভাবশালী, তবে তিনি এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন না। তবুও ইরানের নীতিনির্ধারণে তার মতামতের গুরুত্ব অনেক।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ (Danny Citrinowicz) সিএনএনকে বলেন, ভাহিদি অত্যন্ত কট্টর এবং ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের প্রতি গভীরভাবে অনুগত। তাকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে কোনো কার্যকর সমঝোতা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) কার্যত আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভাহিদির নেতৃত্বে তেহরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আরও কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান নিচ্ছে।

সম্প্রতি ভাহিদি হু’\শিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ভূখণ্ডে আর কোনো হামলা হলে সংঘাত আর সীমিত থাকবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “আগুন সব সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়বে” এবং “তোমরা ধ্বংসাত্মক আঘাতের মুখোমুখি হবে।”

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো আলোচনার জন্য অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন— “হয় চুক্তি, নয়তো কঠোর পদক্ষেপ।”

ভাহিদি সাধারণত জনসমক্ষে খুব কম আসেন। তবে পর্দার আড়ালে তার প্রভাব যে শক্তিশালী, তা এখন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মধ্যপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দুর্বল অবস্থানই ভাহিদির মতো কট্টর নেতৃত্বের উত্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

১৯৫৮ সালে শিরাজে জন্ম নেওয়া আহমাদ ভাহিদি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় থেকেই আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তিনি কুদস ফোর্সের প্রথম কমান্ডার ছিলেন এবং পরবর্তীতে প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকটকালে ভাহিদির মতো একজন আন্তর্জাতিকভাবে পরোয়ানাভুক্ত জেনারেলের এতটা প্রভাবশালী হয়ে ওঠা ইরানের কঠোর ও সংঘাতমুখী অবস্থানকেই প্রতিফলিত করছে।