প্রবাসীদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, সরাসরি সেবা ও সহায়তার আশ্বাস দিলেন মন্ত্রী

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী (Ariful Haque Chowdhury)। তার ভাষ্য, এই কার্ডের আওতায় থাকা প্রবাসীরা সরাসরি বিভিন্ন সরকারি সেবা ও আর্থিক সহায়তা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

শুক্রবার (২৯ মে) কুলাউড়া (Kulaura)-য় ঈদের কুশল বিনিময় উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। সেই সেবামুখী কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই প্রবাসীদের কল্যাণে বিশেষ এই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি করতে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ জরুরি। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

কুলাউড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মো. শওকতুল ইসলাম শকু (Md. Shawkatul Islam Shaku) মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করলে আরিফুল হক চৌধুরী কুলাউড়ার চার লেন সড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চলতি বছরের মধ্যেই এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

কুলাউড়াকে সিলেট বিভাগের অন্যতম মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, কুলাউড়ার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট বিভাগের রাজনীতিতে কুলাউড়ার একটি স্বতন্ত্র ঐতিহ্য ও অবস্থান রয়েছে। রাজনৈতিক সচেতনতা ও চর্চার ক্ষেত্রেও এই উপজেলার আলাদা পরিচিতি আছে। এখানে বাম রাজনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP) শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia) কুলাউড়ার সংগঠনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন, যার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)।

আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমান বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলামের হাতে ধানের শীষের মনোনয়ন তুলে দিলে কুলাউড়ার জনগণ উন্নয়নের প্রত্যাশায় তাকে সংসদে পাঠিয়েছেন। তার মতে, তারেক রহমান এখন সরাসরি কুলাউড়ার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছেন। অতীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হলেও কুলাউড়া আর পিছিয়ে থাকবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে কুলাউড়া উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এমনকি উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য উপজেলাও কুলাউড়াকে অনুসরণ করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ব্যক্তিগত সফরে কুলাউড়ায় গিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুর বাসভবনে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সভায় শওকতুল ইসলাম শকু দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করতে মন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কুলাউড়ার সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্কও রয়েছে। তার বাবার নানা বাড়ি কুলাউড়ায় হওয়ায় এই এলাকার প্রতি তার আবেগ ও টান দীর্ঘদিনের। সেই কারণেই কুলাউড়ার উন্নয়নে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলামকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।