‘গু’\ম-খু’\ন ও ভোট চুরির বৈধতা দেওয়া সাংবাদিকদের পুনর্বাসন হচ্ছে’—সংসদে অভিযোগ হাসনাত আব্দুল্লাহর

জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এ সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং তথ্য বিভ্রান্তি নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। রোববার প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আব্দুল্লাহ (Hasnat Abdullah) অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছরে গু’\ম-খু’\ন, ভোট চুরি ও গণ’\হ’\ত্যার বৈধতা দিয়েছেন—এমন কিছু সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে আবারও বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে।

কুমিল্লা-৪ আসনের এই এনসিপি (NCP) সংসদ সদস্য প্রশ্ন রাখেন, এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও মিডিয়া হাউসগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী (Yasir Khan Chowdhury) বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে, তবে কেউ যদি দেশের প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে কাজ করেন, তাহলে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন।

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বা আইনের বিরুদ্ধে কেউ কাজ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী বা চাকুরিজীবী—যেই হোন না কেন।”

সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, অতীতে অনেক পেশাদার সাংবাদিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। তবে তার অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার পক্ষে ‘সম্মতি উৎপাদন’ করেছেন এবং বিরোধী মতকে দমনমূলকভাবে উপস্থাপন করেছেন।

তিনি কয়েকটি গণমাধ্যম ও মিডিয়া গ্রুপের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, এসব প্ল্যাটফর্ম রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে কিছু সাংবাদিককে টেলিভিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণেও পরিবর্তন এসেছে।

এদিকে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকও আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়হীন বা অনিবন্ধিত ব্যক্তিদের সাংবাদিক পরিচয়ে কাজ করা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয়পত্র বিতরণ ও যোগ্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, সরকার মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন মোকাবিলায় কাজ করছে। তিনি জানান, যারা নিবন্ধিত সাংবাদিক নন অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাদের পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে এবং এর কার্যক্রম শিগগিরই আরও বিস্তৃত করা হবে।