এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হয়ে দুবাইয়ে গ্রে’\প্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর, মিলেছে একাধিক দেশের পাসপোর্ট

দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশের পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ (Benazir Ahmed)-কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রে’\প্তার করেছে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed)। তার কাছে পর্তুগালসহ একাধিক দেশের পাসপোর্ট পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তার কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসের অনুমতিপত্রও ছিল।

সাবেক এই আইজিপি কীভাবে গ্রে’\প্তার হলেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা তথ্য দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেনজীর লন্ডন থেকে দুবাই (Dubai)-এ পৌঁছেছিলেন এবং সেখানে অন্য একটি গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ট্রানজিটে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় বিমানবন্দরের এআই-নির্ভর ক্যামেরা প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট তথ্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কম্পিউটার সিস্টেমে চলে যায়। পরে সেই সতর্কবার্তা পৌঁছে যায় দুবাই বিমানবন্দর পুলিশের কাছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে তারা তার অবস্থান নিশ্চিত করে এবং তাকে গ্রে’\প্তার করে। প্রাথমিকভাবে দেশটিতে পাসপোর্ট জালিয়াতির মাধ্যমে প্রবেশ করার অভিযোগে তাকে গ্রে’\প্তার দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission) বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করে। এসব মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রে’\প্তারের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। তবে তার গ্রে’\প্তারের খবর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত (United Arab Emirates)-এর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে একটি ইমেইল পাঠানো হয়। ওই ইমেইলের মাধ্যমে বেনজীরকে গ্রে’\প্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি দেশটির পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

তাকে কবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, সে বিষয়েও বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে গ্রে’\প্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যার্পণ বা এক্সট্রাডিশনের আবেদন করতে হয়। সরকার ইতোমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দুদকের দায়ের করা মামলাগুলোর নথি, গ্রে’\প্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সট্রাডিশন প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে যত দ্রুত সম্ভব বেনজীরকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।