জাতীয় সংসদে নারীদের বোরকা ও হিজাব নিয়ে দেওয়া কটূক্তিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী (Maulana Muhiuddin Rabbani)। তিনি এ ধরনের মন্তব্যকে দুঃখজনক, অশোভন এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।
রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ (International Majlis-e-Tahaffuz Khatme Nabuwwat Bangladesh)-এর মহাসচিব বলেন, একজন সংসদ সদস্যের মুখ থেকে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য শোনা অত্যন্ত হতাশাজনক। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে কোনো নারীর ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাককে উপহাসের বিষয় বানানো সভ্য ও শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, বোরকা ও হিজাব মুসলিম নারীদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং সাংবিধানিক অধিকারের অংশ। এ ধরনের পোশাক নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরই নয়, বরং ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী কোটি মানুষের অনুভূতিকেও আঘাত করে।
মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ব্যবহৃত ভাষা ও আচরণ জনগণের জন্য দৃষ্টান্ত হওয়া উচিত। কিন্তু ধর্মীয় পোশাক বা পরিচয়কে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করা জনমনে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার পরিবর্তে বিভাজন ও অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া উচিত নীতি, আদর্শ, জনস্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে। ব্যক্তিগত পোশাক, ধর্মীয় অনুশীলন বা পরিচয়কে আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হতে পারে না।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে অবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি জাতীয় সংসদসহ দেশের সব পর্যায়ে পারস্পরিক সম্মান, শালীনতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
