সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা নিয়ে নজর ১৮ জুনের সংলাপে

গণমাধ্যমকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। সোমবার (১৫ জুন) দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, দলীয় অবস্থান কিংবা সরকারের তোষামোদ নয়, বরং সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে দেশকে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

বৈঠকে দেশের টেলিভিশন শিল্পের বিদ্যমান সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, চাকরির নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং গণমাধ্যমের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে মতামত দেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা জানান, আলোচনার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ। তারা আশা প্রকাশ করেন, আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণমাধ্যম খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম. ছালেহ (Abu Abdullah M. Saleh) জানান, অর্থনীতি ও সমাজনীতির পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন (Media Commission) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১৮ জুন অংশীজনদের নিয়ে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা টেলিভিশন শিল্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তারা।

চ্যানেল ২৪ (Channel 24)-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম (Zahirul Alam) বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তাও সমানভাবে জরুরি। তার মতে, পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে গণমাধ্যম আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

বৈঠকে গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, সরকারের সহযোগিতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। এখন সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আগামী ১৮ জুনের সংলাপের দিকে, যেখানে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।