বহুল প্রতীক্ষিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্বাক্ষরিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে পাকিস্তান।
সোমবার মধ্যরাতে চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ (National Assembly of Pakistan)-এ দেওয়া বক্তব্যে শাহবাজ শরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা বিশ্ব শান্তির পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে অর্জিত এই চুক্তি কেবল দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা নয়, বরং শান্তি ও সংলাপের এক বড় বিজয়।
তিনি বলেন, বিশ্ব আজ শান্তির ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলকের সাক্ষী হয়েছে। তার ভাষায়, যুদ্ধের অন্ধকার পেরিয়ে শান্তির সূর্য উদিত হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি কাঠামোয় একমত হয়েছে। পাশাপাশি তেহরান, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান শত্রুতা ও সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে জানান তিনি।
শাহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস ১৬ দিনের নিবিড় আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর এই সমঝোতা অর্জিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পুরো শান্তি প্রক্রিয়াজুড়ে পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতির পর ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯ জুন শুক্রবার, একটি পবিত্র দিনে, জেনেভা (Geneva)-য় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং পাকিস্তান এ অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
এ উপলক্ষে পাকিস্তানের জনগণ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতীয় পরিষদের সদস্যদের অভিনন্দন জানান তিনি। একই সঙ্গে নওয়াজ শরিফ (Nawaz Sharif), প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
শান্তি প্রক্রিয়ায় ভূমিকার জন্য শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি (Sheikh Tamim bin Hamad Al Thani), সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
শাহবাজ শরিফ বলেন, এটি শুধু দুটি দেশের মধ্যে একটি চুক্তি নয়; এটি শান্তি, সংলাপ ও কূটনীতির বিজয়। তিনি আরও দাবি করেন, এই শান্তি উদ্যোগের মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে মর্যাদা অর্জন করেছে, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন


