জাইকার অর্থায়নে চালু হওয়া আধুনিক কর ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারকে কেন্দ্র করে রংপুর সিটি করপোরেশন (Rangpur City Corporation)-এ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সংগঠিত রাজস্ব লুটপাট, কর ফাঁকি, নথি জালিয়াতি এবং ডিজিটাল কারসাজির এক বিস্ময়কর চিত্র সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ২০১৯ সালে কোনো বৈধ কারিগরি অনুমোদন ছাড়াই সার্ভারের মূল কোড পরিবর্তন করে কর আদায় ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একাধিক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ একটি চক্র নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। :contentReference[oaicite:0]{index=0}
অভিযোগ অনুযায়ী, কর নির্ধারণ, বকেয়া সংশোধন, বিল পরিবর্তন, কর মওকুফ এবং তথ্য মুছে ফেলার মতো ক্ষমতা কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক অনিয়ম। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, সফটওয়্যারে ভুয়া আইডি তৈরি, বকেয়া কর গায়েব করা, একই স্থাপনার বিপরীতে একাধিক হোল্ডিং খোলা, অস্তিত্বহীন ‘ভূতুড়ে’ হোল্ডিং তৈরি করে কোটি কোটি টাকা বকেয়া দেখানো এবং নগদ অর্থ আত্মসাতের মতো অসংখ্য অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। :contentReference[oaicite:1]{index=1}
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রকৃত করদাতার তথ্য মুছে দিয়ে নতুন ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হতো। পরে সেই ভুয়া অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ বকেয়া দেখিয়ে হিসাবের ভারসাম্য রক্ষা করা হতো। বিভিন্ন এলাকায় যাচাই-বাছাই করে এমন বহু হোল্ডিংয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলোর কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই। তবু সেগুলোর বিপরীতে লাখ লাখ এমনকি কোটি টাকার বকেয়া দেখানো হয়েছে। :contentReference[oaicite:2]{index=2}
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, অনেক ক্ষেত্রে সফটওয়্যারে কর ‘পরিশোধ’ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা হয়নি। করদাতাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে সফটওয়্যারে বিল নিষ্পত্তি দেখিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে। একাধিক হোল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সফটওয়্যারের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। :contentReference[oaicite:3]{index=3}
কর ফাঁকির আরেকটি বড় কৌশল ছিল ভবনের প্রকৃত আয়তন ও তলার সংখ্যা গোপন রাখা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বহু তলাবিশিষ্ট ভবনকে কাগজে-কলমে দুই বা তিন তলা দেখিয়ে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সিটি করপোরেশন। :contentReference[oaicite:4]{index=4}
এছাড়া একই ভবনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মূল্যমান ব্যবহার করে একাধিক বিল তৈরি, ব্যাংকের সিল জাল করা, ভুয়া রসিদ প্রদান এবং কর মওকুফের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো আবেদন, অনুমোদন বা নথিপত্র ছাড়াই হাতে লিখে ‘ডিসকাউন্ট’ দেখিয়ে কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। :contentReference[oaicite:5]{index=5}
অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, জালিয়াতির প্রমাণ আড়াল করতে সার্ভারের ‘কি-লগ’, বিল সংশোধনের ইতিহাস এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ট্র্যাকিং তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে। শুধু ডিজিটাল তথ্য নয়, ব্যাংক ভাউচার, কর রিভিউ নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও গায়েব বা ধ্বংস করার অভিযোগ রয়েছে। :contentReference[oaicite:6]{index=6}
২০২৩ সালে গঠিত একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটিও কর কমানো, ঘুষ গ্রহণ এবং ব্যাংকের ভুয়া সিল ব্যবহারের মতো অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই তদন্তের পরও অধিকাংশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। :contentReference[oaicite:7]{index=7}
তদন্তে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন আরিফুল ইসলাম (Ariful Islam), মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (Mostafizar Rahman Mostafa), রাকিব হাসান (Rakib Hasan), মাহফুজ উন নবী চৌধুরী (Mahfuz Un Nabi Chowdhury) এবং জয়শ্রী রানী রায় (Joyshree Rani Roy)সহ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে অভিযুক্তদের অনেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অথবা দায় অন্যদের ওপর চাপিয়েছেন। :contentReference[oaicite:8]{index=8}
বর্তমান প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যারে অননুমোদিত প্রবেশ বন্ধ করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। :contentReference[oaicite:9]{index=9}
