বিশ্বকাপের মঞ্চে হ্যাটট্রিকের অপূর্ণতা ঘুচল, গোলের পর কান্নার কারণ জানালেন মেসি

লিওনেল মেসি (Lionel Messi)—বিশ্বজয়, টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হিসেবে দুবার গোল্ডেন বল, অসংখ্য রেকর্ড আর অগণিত সাফল্যে ভরা এক ক্যারিয়ার। তবু বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি হ্যাটট্রিক ছিল তাঁর অর্জনের তালিকার একমাত্র বড় অপূর্ণতা। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন তিনি।

আর্জেন্টিনা (Argentina) ও আলজেরিয়া (Algeria)-র মধ্যকার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় পুরোপুরি ‘মেসি শো’-তে। আলবিসেলেস্তেদের জয়ের তিনটি গোলই আসে অধিনায়কের পা থেকে। তাঁর দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকেই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে আর্জেন্টিনা।

এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারে উঠে এসেছেন মেসি। তিনি স্পর্শ করেছেন মিরোস্লাভ ক্লোসা (Miroslav Klose)-র ১৬ গোলের রেকর্ড। ফলে বিশ্বকাপে দুজনের গোলসংখ্যা এখন সমান।

ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা ছিল নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে। ১৭ মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া মেসির শক্তিশালী শট আলজেরিয়ার জালে জড়িয়ে যায়। গ্যালারিজুড়ে তখন উচ্ছ্বাস আর উদ্‌যাপন। কিন্তু সেই মুহূর্তেই ক্যামেরায় ধরা পড়ে ভিন্ন এক দৃশ্য—গোল করার পর আবেগে কেঁদে ফেলেন মেসি।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে নিজের কান্নার কারণ ব্যাখ্যা করেন তিনি। মেসি জানান, এর সঙ্গে মাঠের পারফরম্যান্স বা ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কিছু ব্যক্তিগত কারণে গত কয়েকটা দিন আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল। আমার সতীর্থরা যেভাবে পাশে থেকেছে, তার জন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। কঠিন সময় পার করে উঠতে তারা আমাকে অনেক শক্তি দিয়েছে।’

কাতার বিশ্বকাপ (Qatar World Cup) জয়ের মাধ্যমে ২০২২ সালে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এ অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে দলটি। আর প্রথম ম্যাচেই অধিনায়কের এমন বিধ্বংসী পারফরম্যান্স সেই স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

তবে এত বড় এক মাইলফলকের পরও মেসির প্রতিক্রিয়ায় ছিল চিরচেনা বিনয়। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘পরিবার এবং সতীর্থদের সঙ্গে এই মুহূর্ত উপভোগ করতে পারাটা সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি। আমাদের দলটি খুবই গোছানো এবং শক্তিশালী। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।’

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক, ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ এবং আবেগঘন এক ব্যক্তিগত মুহূর্ত—সব মিলিয়ে মেসির এই রাজকীয় সূচনা আবারও কোটি ফুটবলপ্রেমীর সামনে নতুন এক সোনালি স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছে।