বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, সড়ক-রেলে আসছে ২৪ মেগা প্রকল্প

দেশের রেলপথকে আরও নিরাপদ, আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব করে তুলতে প্রধান প্রধান রেল রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন বা ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। একই সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া (Md. Mobashwer Alam Bhuiyan)-এর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সামগ্রিক সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় জাতীয় মহাসড়কগুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড’ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সড়ক অবকাঠামোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনজনিত ক্ষতি কমাতে স্বয়ংক্রিয় স্মার্ট মনিটরিং ও এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান তিনি। সরকারের মতে, এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাসড়কের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে একটি আধুনিক রিং রোড এবং রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ মোড়গুলোতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

যোগাযোগ খাতের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে যমুনা নদীর ওপর ‘দ্বিতীয় যমুনা সেতু’ এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’ নির্মাণের পরিকল্পনা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে (Bangladesh Railway)-কে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৪৫ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে মোট ২৪টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় দেশের সব মিটারগেজ ও ব্রডগেজ রেলপথকে পর্যায়ক্রমে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে, যা দেশের রেল যোগাযোগকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে জ্বালানি ব্যয় কমবে, পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে এবং ট্রেন পরিচালনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। একই সঙ্গে রেলপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও দক্ষ হবে।

যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের প্রধান রুটগুলোতে আন্তঃনগর ট্রেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে কমিউটার ট্রেনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তার লিখিত জবাবে বলা হয়, ভবিষ্যতের চাহিদা মাথায় রেখে রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।