ফেসবুকের পরিচয় থেকে রাজধানীর হোটেলে সাক্ষাৎ, সৌদি ফেরত প্রবাসী আল আমিনের রহস্যঘেরা মৃ’\ত্যু

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়, কয়েক মাসের নিয়মিত কথোপকথন, তারপর বহু প্রতীক্ষিত সামনাসামনি সাক্ষাৎ। কিন্তু সেই সাক্ষাৎই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে এক রহস্যময় মৃ’\ত্যুর ঘটনায়। সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা প্রবাসী আল আমিন (৪০) রাজধানীর ঢাকা (Dhaka) শহরের গুলিস্তানের একটি আবাসিক হোটেলে নারী বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে মা’\রা গেছেন। ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও প্রাথমিকভাবে মৃ’\ত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে গুলিস্তান (Gulistan) এলাকার হোটেল রমনায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (Dhaka Medical College Hospital)-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ’\ত ঘোষণা করেন।

নি’\হত আল আমিন গাজীপুর (Gazipur) জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুর রাস্তা এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদি আরব (Saudi Arabia)-এ কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১৩ জুন তিনি দেশে ফেরেন।

পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে আল আমিনের পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকে। বৃহস্পতিবারও তাদের মধ্যে কথা হয়। এরপর শুক্রবার রাজধানীতে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

নারী বন্ধুর ভাষ্য অনুযায়ী, আল আমিন তাকে জানিয়েছিলেন যে তার জন্য কিছু উপহার রয়েছে। সেই উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি ঢাকায় আসেন। সকালে গুলিস্তানে তাদের সাক্ষাৎ হয়। পরে তারা হোটেল রমনার একটি কক্ষে ওঠেন এবং কিছু সময় কথাবার্তা বলেন।

নারীটি জানান, একপর্যায়ে আল আমিন ওয়াশরুমে যান। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান তিনি। বিষয়টি তাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। দ্রুত ওয়াশরুমের দিকে গিয়ে তিনি দেখেন, দরজা খোলা এবং আল আমিন মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। তার চিৎকারে হোটেলের কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের সহায়তায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃ’\ত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক (Md. Faruk) বলেন, মরদেহ ময়না’\তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মৃ’\ত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি পল্টন থানাকে জানানো হয়েছে।

এদিকে নি’\হতের ছোট ভাই রুহুল আমিন জানান, তার ভাই সৌদি আরব থেকে কিছু মালামাল ও উপহার নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন। ঘটনার দিন তিনি পরিবারের সদস্যদের বলেছিলেন, এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে কিছু জিনিসপত্র পৌঁছে দিতে ঢাকায় যাচ্ছেন। পরে তারা জানতে পারেন, একটি হোটেলের ওয়াশরুমে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার মৃ’\ত্যু হয়েছে।

মৃ’\ত্যুর পেছনে কোনো শারীরিক অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং ময়না’\তদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য, ময়না’\তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে মৃ’\ত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান করা সমীচীন হবে না। তবে ঘটনার প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।