বাবার মৃ’\ত্যু’\বার্ষিকীতে আরও দুই মৃ’\ত্যু’\সংবাদে স্তব্ধ পিয়া জান্নাতুল

র‍্যাম্প মডেলিং থেকে অভিনয়, এমনকি আইন পেশাতেও নিজের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন দেশের পরিচিত মুখ পিয়া জান্নাতুল (Peya Jannatul)। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত নিজের ভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। ২৩ জুন বাবার প্রথম মৃ’\ত্যু’\বার্ষিকীতে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন এই তারকা। তবে বাবাকে হারানোর স্মৃতিবেদনাময় দিনটিতেই আরও দুজনের মৃ’\ত্যু’\সংবাদ তাকে গভীরভাবে স্তব্ধ ও মর্মাহত করেছে।

ফেসবুক (Facebook)-এ দেওয়া পোস্টে পিয়া জান্নাতুল লিখেছেন, ‘২৩ জুন, আমার আব্বুর প্রথম মৃ’\ত্যু’\বার্ষিকী। এক বছর হয়ে গেল। আজ তার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে শুধু মনে হচ্ছিল, মানুষ আসলে কত অল্প সময়ের জন্য আসে এই পৃথিবীতে। এর মধ্যেই আজ আরও দুটি মৃ’\ত্যু’\সংবাদ মনটা ভারী করে দিল।’

তরুণ নারী উদ্যোক্তা এবং ফ্যাশন ব্র্যান্ড পাখি (Pakhi)-র প্রতিষ্ঠাতা প্রিয়া (Priya)-র অকাল প্র’\য়াণে শোক প্রকাশ করেছেন পিয়া। মাত্র ৩২ বছর বয়সে প্রিয়ার হঠাৎ চলে যাওয়ার খবরটি তার কাছে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

পিয়া লিখেছেন, ‘পাখির প্রতিষ্ঠাতা প্রিয়া, মাত্র ৩২ বছর বয়সে হঠাৎ চলে গেলেন। কয়েক মাস আগে তার সঙ্গে কাজের বিষয়ে কথা হয়েছিল। তার স্বপ্ন, তার ভিশন, আর বাংলাদেশকে নিয়ে তার পরিকল্পনা শুনে খুব ভালো লেগেছিল। এত অল্প বয়সে তার চলে যাওয়ার খবরটা সত্যিই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।’

প্রিয়ার স্বপ্ন, কাজের পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশকে ঘিরে তার ভাবনার কথা স্মরণ করে পিয়া জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগেই তাদের মধ্যে কাজ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই আলাপের স্মৃতি এখন প্রিয়ার আকস্মিক চলে যাওয়ার খবরকে তার জন্য আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।

একই দিনে কোরিওগ্রাফার জাকির হোসেন (Zakir Hossain)-এর মৃ’\ত্যু’\সংবাদও পিয়াকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। জাকির হোসেন পিয়ার একটি চলচ্চিত্রে কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছিলেন। মাত্র ৫০ বছর বয়সে তার চলে যাওয়ার খবরও স্মৃতিকাতর করে তুলেছে এই অভিনেত্রী ও মডেলকে।

পিয়া আরও লিখেছেন, ‘আরেকটি খবরও আমাকে ছুঁয়ে গেছে। জাকির ভাই, যিনি আমার একটি চলচ্চিত্রে কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছিলেন, তিনিও আর নেই। বয়স মাত্র ৫০। দিন শেষে একটা কথাই বারবার মনে হয় মৃ’\ত্যু’\ই আমাদের সবার শেষ গন্তব্য। তাই যতদিন বেঁচে আছি, সুস্থ থাকার চেষ্টা করি, কারও কষ্টের কারণ না হই, ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি।’

একই দিনে ব্যক্তিগত শোকের পাশাপাশি পরিচিত দুই মানুষের চলে যাওয়ার খবর পিয়াকে জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবিয়েছে। তার কথায় উঠে এসেছে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা, অন্যের কষ্টের কারণ না হওয়া এবং একজন ভালো মানুষ হয়ে জীবন কাটানোর আকাঙ্ক্ষা।

পোস্টের শেষাংশে মানুষের সম্পদ ও সাফল্যের চেয়ে তার আচরণ এবং মানবিকতাই শেষ পর্যন্ত অন্যদের স্মৃতিতে বেশি দিন থেকে যায়—এমন উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন পিয়া জান্নাতুল।

তিনি লিখেছেন, ‘কারণ আমরা চলে যাওয়ার পর মানুষ আমাদের সম্পদ বা সাফল্যের কথা যতটা না মনে রাখে, তার চেয়ে বেশি মনে রাখে আমাদের ব্যবহার, আমাদের মানবিকতা। আমার আব্বুর জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন। আমিন।’