নরসিংদীতে একটি জীবন্ত কুকুরকে গলায় দড়ি দিয়ে ইট বেঁধে সেতুর ওপর থেকে নদীতে নিক্ষেপের অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে নরসিংদী (Narsingdi) সদর উপজেলার কামারগাঁও এলাকা থেকে মোহাম্মদ আলী (২৫) নামে ওই যুবককে আটক করা হয়। তিনি এলাকার আব্দুর রবের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি জীবন্ত কুকুরের গলায় দড়ি বেঁধে তার সঙ্গে একটি ইট সংযুক্ত করা হয়। পরে সেতুর ওপর থেকে প্রাণীটিকে মেঘনা নদীর একটি শাখা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তকে দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। ঘটনার ভিডিও নজরে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।
এদিকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ও সংগঠনের গ্রুপে ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়ে অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। একপর্যায়ে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (Jatiyatabadi Chhatra Dal)-এর কর্মীরা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ (Siddiqur Rahman Nahid) বলেন, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে অভিযুক্তের পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার (Sujan Chandra Sarkar) বলেন, একটি কুকুরকে গলায় দড়ি বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাণী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন অনেকেই।


