বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে শুধু বন্ধুত্বের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সমর্থনের ভিত্তিতে একটি কার্যকর অংশীদারিত্বে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান (Shafiqur Rahman)। একইসঙ্গে কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ককাস অব আমেরিকা’ এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে সাধারণ বন্ধুত্ব থেকে বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সমর্থনের ভিত্তিতে একটি প্রকৃত অংশীদারিত্বে রূপান্তর করার আমি দৃঢ় আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নি’\হত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেশীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি তাদের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে তিনি স্বাগত জানান। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তিনি ‘ককাস অব আমেরিকা’র কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সংসদীয় কূটনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শরণার্থী পরিবার, বন্যাকবলিত এলাকা এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও জনগণকে স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
ড. মো. ওসমান ফারুক এমপির সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (Kaisar Kamal)।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘ককাস অব আমেরিকা’র কার্যনির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রতিনিধি রয়েছেন। তারা হলেন ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) (Mir Ahmad Bin Kasem Arman) এবং মারদিয়া মমতাজ (Mardia Momtaz)। তাদের অংশগ্রহণ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে গঠনমূলক সংসদীয় কূটনীতি পরিচালনা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ইউএন-কপস সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এদিকে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম ইউনাইটেড নেশনস চিফস অব পুলিশ সামিট (ইউএন-কপস-৫)-এ অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed)।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রতিনিধি দলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরও থাকবেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন ছাড়াও তিনি ‘জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা’, ‘জাতিসংঘ পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি’ এবং ‘আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক তিনটি প্লেনারি অধিবেশনে অংশ নেবেন। পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজেও অংশগ্রহণ করবেন।
সফরকালে তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েন, ভবিষ্যৎ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অগ্রাধিকার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-৫৮৫ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। আগামী ১২ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
