ভাইরাল ভিডিও নিয়ে ‘কুৎসা’ বন্ধের হুঁশিয়ারি, আইনি ব্যবস্থার কথা বললেন গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি রাজধানীর মগবাজারের একটি অফিসে ধারণ করা বলে জানিয়েছেন ওই সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে লিখিত বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, ভিডিওতে দেখা ১৮ বছর বয়সী তরুণী মরিয়ম বেগম তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

এ নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলার মধ্যেই যারা তার স্বামীকে ঘিরে ‘কুৎসা রটাচ্ছেন’, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম (Mosammat Maksuda Begum)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

ভিডিওবার্তায় মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম বলেন, ‘আমি মাকছুদা ইসলাম। আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম বেগমের বিবাহ হয়েছে। এটা নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এর থেকে বিরত না থাকলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।’

এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম (Gazi Nazrul Islam)-কে এক নারীর সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ অবস্থায়’ দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে লিখিত বিবৃতি দেন গাজী নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম (Mariam Begum) এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। রাজধানীর মগবাজার (Moghbazar) এলাকায় অবস্থিত ওই কার্যালয়ে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে অবস্থান করার সময় গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ছয় থেকে সাতজন অপরিচিত ব্যক্তিকে কার্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ করে দেন। ওই ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে সংসদ সদস্য ও তার পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চান এবং একপর্যায়ে তাদের হে’\নস্তা শুরু করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরে সংসদ সদস্য ও তার সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁ’\দা দাবি করা হয়। পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা দেওয়ার পর তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর গাজী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন, পুরো পরিস্থিতির মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ। বিবৃতিতে জানানো হয়, ওবায়দুল্লাহ সম্পর্কে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমের মামা।

সংসদ সদস্যের দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পূর্বশত্রুতা ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ সংসদ সদস্যের কাছে পাঁচ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁ’\দা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার হু’\মকি দেওয়া হয়।

গাজী নজরুল ইসলামের অভিযোগ, দাবিকৃত টাকা না পেয়ে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ ওই অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে একটি বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে জনসমক্ষে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়।

সংসদ সদস্য ঘটনাটিকে তার এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র ও ‘চরিত্র হ’\ননের অপচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ফুটেজের দৃশ্যগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করে তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

গাজী নজরুল ইসলাম এ কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পুরো ঘটনাটি সাজানো। তিনি গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও চেয়েছেন তিনি।

ভিডিওটি প্রকাশের পর এর সত্যতা নিয়েও বিভিন্ন ধরনের দাবি সামনে আসে। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’ ভিডিওটি নিয়ে ভিন্ন দাবি তুলে ধরে। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার (Rumor Scanner) জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সম্পাদিত বা কৃত্রিম নয়; এটি আসল ভিডিও।

একদিকে ভিডিওর সত্যতা নিয়ে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণ, অন্যদিকে গাজী নজরুল ইসলামের সাজানো ষড়যন্ত্র ও চাঁ’\দাবাজির অভিযোগ—এই দুই অবস্থানের মধ্যেই বিতর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম প্রকাশ্যে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন।