ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন তরুণী ও তার বাবা, গাজী নজরুলকে স্বামী দাবি মরিয়মের

সাতক্ষীরা-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি কক্ষের ভেতরে এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (Gazi Nazrul Islam)-কে ঘনিষ্ঠভাবে অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

এবার ওই ভিডিও নিয়ে কথা বলেছেন ভিডিওতে থাকা তরুণী ও তার বাবা। তরুণীর বাবা দাবি করেছেন, তার মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছে। একইভাবে ভিডিওতে থাকা তরুণীও গাজী নজরুল ইসলামকে নিজের স্বামী বলে দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে ডিসেন্ট জানিয়েছে, ভিডিওতে দেখা তরুণীর নাম মরিয়ম খাতুন (Mariam Khatun)।

তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহ (Masum Billah) জানান, তিন লাখ টাকা দেনমোহরে গত ১৭ জুন তার মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। ঘটনার দিন তারা রাজধানীর মগবাজারে তার ব্যবসায়িক অফিসে গিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেখান থেকেই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মাসুম বিল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে তার শ্যালক ওবায়দুল্লাহ জড়িত। ওবায়দুল্লাহ তার অফিসে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘উনি আমার স্বামী। আমাদের বিয়ে হয়েছে। ওই দিন ঘুরতে গিয়ে আমরা আমার বাবার অফিসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম।’

নিজের শিক্ষাগত অবস্থার বিষয়ে মরিয়ম জানান, তিনি এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এবং দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ‘এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

এদিকে ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা চলার মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে গাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজার (Moghbazar) এলাকায় যান। সেখানে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে তারা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

সংসদ সদস্যের দাবি, মাসুম বিল্লাহর অফিসে অবস্থান করার সময় তার গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ (Obaidullah) গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি পাঁচ থেকে সাতজন অপরিচিত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করেন।

গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তিরা তাদের জি’\ম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন। একই বক্তব্য তিনি ফেসবুক পোস্টের বিভিন্ন অংশে তুলে ধরেছেন।

এমপি গাজী নজরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, চলাচলের জন্য তিনি যে ভাড়া গাড়িটি ব্যবহার করতেন, সেটিও ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তী সময়ে আটকে রাখা হয়। এরপর দফায় দফায় তাদের কাছে কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়।

তিনি লেখেন, ‘আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হু’\মকি দেওয়া হয়।’

গাজী নজরুল ইসলামের দাবি, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা এবং পারিবারিক বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘পরবর্তীতে হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে এবং ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।’

ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচারের বিষয়টি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন গাজী নজরুল ইসলাম। তার বক্তব্য, স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিওকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সামাজিকভাবে তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা এবং পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ষ’\ড়যন্ত্র ঘটানো হয়েছে—ফেসবুক পোস্টে এ দাবি একাধিকবার উল্লেখ করেন সংসদ সদস্য।

গাজী নজরুল ইসলাম আরও জানান, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে মরিয়ম বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন লাখ টাকা।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ তার সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ষ’\ড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম।