ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা (Purnima), যার পুরো নাম দিলারা হানিফ রিতা। রুপালি পর্দা হোক কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রঙিন ক্যানভাস—তার যেকোনো উপস্থিতিই ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি করে আলাদা উন্মাদনা। বয়সকে যেন অনায়াসে থামিয়ে রেখেছেন এই অভিনেত্রী। চিরসবুজ সৌন্দর্য ও আকর্ষণীয় উপস্থিতিতে তাকে দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, বয়স এখনো আঠারো ছুঁইছুঁই।
অথচ গত ১১ জুলাই ৪৪ বছর পূর্ণ করে ৪৫ বছরে পা রেখেছেন পূর্ণিমা। ১৯৮১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রাম (Chattogram)-এর ফটিকছড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পরও তার সৌন্দর্য, প্রাণবন্ততা ও সাবলীল উপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের আগ্রহে এতটুকু ভাটা পড়েনি।
সম্প্রতি পূর্ণিমার কথিত ‘বান্ধবীদের’ নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসেন অভিনেত্রী। একটি অনুষ্ঠানে নিজের প্রকাশ করা সেই ভিডিও এবং ভিডিওতে থাকা নারীদের ঘিরে তৈরি হওয়া ‘ভাইরাল’ আলোচনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা সেই ঘটনার নেপথ্যের গল্পও তুলে ধরেছেন।
মূলত পূর্ণিমার শেয়ার করা ভিন্নধর্মী ও আবেগঘন একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করেই আলোচনার সূত্রপাত। ভিডিওটিতে কয়েকজন নারীর সঙ্গে অত্যন্ত সাবলীল, আন্তরিক ও আনন্দঘন মুহূর্তে ক্যামেরাবন্দি হতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। তাদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা ও আন্তরিকতার সেই দৃশ্য দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে দর্শকদের নজর কাড়ে।
ভিডিওটি পোস্ট করার সময় ক্যাপশনে ভালোবাসার ইমোজি যোগ করে পূর্ণিমা লিখেছিলেন, ‘এই সেই আমার বান্ধবীরা।’ তার এই এক বাক্যের ক্যাপশন ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। ভিডিওতে থাকা নারীরা কারা এবং পূর্ণিমার সঙ্গে তাদের সম্পর্কই-বা কী—এমন প্রশ্নও ওঠে ভক্তদের মধ্যে।
সেই ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্যের ঘটনা জানাতে গিয়ে পূর্ণিমা বলেন, ‘আমি একটা রিসোর্টে যাই, সেখানে উনারা খুবই মজার রান্না করেন। আমি খেতে পছন্দ করি। আমি কিচেনে যাই, উনারা কী কী রান্না করেন দেখি।’
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারীরা রিসোর্টের রান্নাঘরে কাজ করেন। সেখানে গেলে তাদের রান্না দেখতে রান্নাঘরে ঢুঁ মারেন পূর্ণিমা। খাবারের প্রতি নিজের আগ্রহ থেকেই রান্নার বিভিন্ন আয়োজন দেখেন এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি।
পূর্ণিমা বলেন, ‘তারা বসে থাকে যে আমি কখন আসব, আমি রান্নাটা দেখব। মাঝে মাঝে আমি একটু বলি যে, আমি একটু শসা কাটি, একটু লেবু কাটি। খুবই আন্তরিকভাবেই ওরা আমাকে পছন্দ করে।’
তার কথায় স্পষ্ট, ভিডিওতে থাকা নারীদের সঙ্গে সম্পর্কটি ছিল আন্তরিকতা ও ভালোবাসার। পূর্ণিমা রিসোর্টে গেলে তারা অপেক্ষা করেন কখন অভিনেত্রী রান্নাঘরে যাবেন, তাদের রান্না দেখবেন এবং কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটাবেন। কখনো শসা কিংবা লেবু কাটার মতো ছোটখাটো কাজেও তাদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি।
এক অনুষ্ঠানে সেই ভাইরাল ভিডিওর রহস্যের মোড়ক উন্মোচন করতে গিয়ে পূর্ণিমা জানান, ভিডিওটি তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। পরে নিজের এক বান্ধবীর সঙ্গে ফটোশুটের আরেকটি ভিডিওও পোস্ট করেন।
হাস্যরসের সুরে পূর্ণিমা বলেন, ‘ভিডিওটা আমি দিয়েছি। আমি পরে আরেকটি ভিডিও দিয়েছি আমার বান্ধবীর সঙ্গে, ফটোশুট করছি। এমনকি আমি তো বান্ধবী বানাইনি, বান্ধবী বানিয়েছিলেন আপনারা।’
অর্থাৎ ভিডিওতে থাকা নারীদের ‘বান্ধবী’ হিসেবে ঘিরে যে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে, সেটিকে নিজের দেওয়া পরিচয় নয় বলেই মন্তব্য করেছেন পূর্ণিমা। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরাই তাদের নিয়ে ‘বান্ধবী’ পরিচয় তৈরি করেছেন। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিরক্তির বদলে স্বভাবসুলভ হাস্যরসেই জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী।


