ফরিদপুর থেকে দৌলতদিয়াগামী অপর্ণা পরিবহনের একটি বাস, একটি মাহিন্দ্র ও একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই সময় ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা পাঁচটি বগি দ্রুতগতিতে এসে তিনটি যানবাহনকে সজোরে ধা’\ক্কা দেয়।
বগিগুলোর প্রচণ্ড ধা’\ক্কায় মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অপর্ণা পরিবহনের বাসটির সামনের অংশও ভে’\ঙে যায়। একপর্যায়ে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে রেললাইনের পাশে আটকে পড়ে।
দু’\র্ঘটনায় মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকে থাকা কয়েকজন যাত্রীর হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জ’\খম হয়। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে খানখানাপুর তদন্তকেন্দ্র (Khankhanapur Investigation Centre)-এর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আ’\হত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়।
গুরুতর আ’\হত পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (Faridpur Medical College Hospital)-এ ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই দুজনের মৃ’\ত্যু হয়।
রাজবাড়ী সদর থানা (Rajbari Sadar Police Station)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, দু’\র্ঘটনায় গুরুতর আ’\হত পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই মা’\রা যান।
তিনি জানান, কী কারণে এ দু’\র্ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, রেলক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার ওঠানোর পরপরই বাস, মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকটি রেললাইন পার হতে শুরু করে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পেছন থেকে বিচ্ছিন্ন বগিগুলো এসে যানবাহনগুলোকে ধা’\ক্কা দেয়।
তিনি বলেন, ‘এতে এক মিনিটও লাগেনি। মুহূর্তের মধ্যে রেলের বগিগুলো সজোরে আঘাত করে যানবাহনগুলো টেনে নিয়ে যায়। এক মিনিট পরে ব্যারিয়ারটি তোলা হলে হয়তো এ দু’\র্ঘটনা ঘটত না।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মমিনের দাবি, রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা গেটম্যান সম্ভবত বুঝতে পারেননি যে মূল ট্রেনটি চলে গেলেও আরও কয়েকটি বগি পেছনে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এগিয়ে আসছিল।
দু’\র্ঘটনার পর বিচ্ছিন্ন পাঁচটি বগি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাজবাড়ী রেলওয়ে (Rajbari Railway)-এর জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী মাহাবুব হাসান জানান, গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগিগুলো আমিরাবাদ স্টেশন (Amirabad Station)-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


