সন্তানদের স্কুল থেকে আনতে গিয়েই শেষ যাত্রা, লাকেম্বার দুর’\ঘটনায় নুরহায়াতির মৃ’\ত্যু

দুই ছোট সন্তানকে স্কুল থেকে বাসায় ফিরিয়ে আনার কথা ছিল তার। প্রতিদিনের মতোই পরিচিত সেই পথে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সন্তানদের কাছে আর ফেরা হলো না—সেই পথই হয়ে উঠল নুরহায়াতি পামুংকাসের জীবনের শেষ যাত্রা।

সিডনির বাংলাদেশি অধ্যুষিত লাকেম্বা (Lakemba) এলাকায় সড়ক দুর’\ঘটনায় গুরুতর আ’\হত নুরহায়াতি পামুংকাস (Nurhayati Pamungkas) অবশেষে মৃ’\ত্যুর কাছে হার মানলেন। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে জীবন-মৃ’\ত্যুর লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পর সোমবার রাতে লিভারপুল হাসপাতাল (Liverpool Hospital)-এ তার মৃ’\ত্যু হয়।

একই দুর’\ঘটনায় গুরুতর আ’\হত বাংলাদেশি মাহবুবুল হক (Mahbubul Haq) এখনো সিডনির সেন্ট জর্জ হাসপাতাল (St George Hospital)-এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ৬৪ বছর বয়সী মাহবুবুল হকের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ (New South Wales Police) জানায়, গত ২৮ জুলাই দুপুর ১টার কিছু আগে লাকেম্বার দ্য বুলেভার্ড সড়কে দুর’\ঘটনাটি ঘটে। একটি সাদা টয়োটা টারাগো গাড়ি প্রথমে দুই পথচারীকে ধাক্কা দেয়। এরপর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়কের বিপরীত পাশে থাকা আরও দুটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এই সংঘর্ষে ৪৩ বছর বয়সী নুরহায়াতি এবং মাহবুবুল হক গুরুতর আ’\হত হন। খবর পেয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস অ্যাম্বুলেন্সের প্যারামেডিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা নুরহায়াতিকে সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় লিভারপুল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকে তার জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান। তবে দীর্ঘ এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জীবন-মৃ’\ত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর সোমবার রাতে তার মৃ’\ত্যু হয়। অন্যদিকে, একই দুর’\ঘটনায় আ’\হত মাহবুবুল হককে সেন্ট জর্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নিয়ে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর’\ঘটনার পর নুরহায়াতি অচেতন অবস্থায় সড়কের ওপর পড়ে ছিলেন। তার কান ও নাক দিয়ে র’\ক্তক্ষরণ হচ্ছিল। চারপাশের মানুষ দ্রুত জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর’\ঘটনায় জড়িত সাদা টয়োটা টারাগো গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ৮২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। দুর’\ঘটনার পর তাকেও ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বাধ্যতামূলক পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যগত মূল্যায়নের জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর ক্যাম্পসি পুলিশ এরিয়া কমান্ড পুরো এলাকাটিকে অপরাধস্থল হিসেবে ঘোষণা করে। সড়কটি ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি দুর’\ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করে ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ইউনিট। গাড়িটির গতি, চালকের শারীরিক অবস্থা এবং সংঘর্ষের ঠিক আগের পরিস্থিতিসহ সংশ্লিষ্ট সব দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নুরহায়াতির মৃ’\ত্যুর পর এ ঘটনায় করোনারের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর’\ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এই দুর’\ঘটনায় দুই শিশু হারিয়েছে তাদের মাকে। যে মা সন্তানদের স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য বেরিয়েছিলেন, তিনিই আর ঘরে ফিরতে পারলেন না। অন্যদিকে, মৃ’\ত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশি মাহবুবুল হক। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি বৃহত্তর বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।