দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের গভীর চিত্র তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর (Asif Akbar)। তার অভিযোগ, ছোটখাটো চু’\রি ও অনিয়মের ঘটনা গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও লুটেরা গোষ্ঠীর দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে সেভাবে আলোচনা কিংবা প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।
একই সঙ্গে সাফ ফুটবলের নেতৃত্ব, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (Bangladesh Football Federation—BFF) এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় (Sports Ministry)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আসিফের ভাষ্য, বিচ্ছিন্ন মনে হলেও এসব ঘটনা আসলে ‘একই সূত্রে গাঁথা পুরোনো নকশার অংশ’।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে (Facebook) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
পোস্টের শুরুতে আসিফ লেখেন, স্কুলের টিফিন সরানোর অপরাধে একজন শিক্ষককে পাকড়াও করে হেনস্তা করা হয়। পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোটখাটো চু’\রি কিংবা অন্যায়ের সংবাদ প্রায়ই ফলাও করে প্রচার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে নড়ে ওঠে তথাকথিত নেটিজেন সমাজ, জনসাধারণের প্রতিক্রিয়াও হয়ে ওঠে অত্যন্ত তীব্র।
তার ভাষায়, সামান্য খাবার চু’\রির অপরাধে এ দেশে মানুষ কিংবা বোবা প্রাণীকে পর্যন্ত পিটিয়ে মে’\রে ফে’\লা হয়। অথচ অন্যদিকে, লুটেরা গোষ্ঠী নির্বিঘ্নে দেশটিকে লুটে চলেছে। রাজনীতিকে হাতিয়ার বানিয়ে তারাই দেশকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দেয়, আবার একসময় জনপ্রতিনিধির আসনেও বসে যায়।
আসিফের অভিযোগ, সাধারণ মানুষই শেষ পর্যন্ত এসব ব্যক্তিকে নেতা ও অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে তাদের পেছনে পেছনে ঘোরে, আর ‘আমার ভাই, তোমার ভাই’ স্লোগানে চারপাশ মুখর করে তোলে। তারাই আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে ত্যাগী ও মজলুমের পরিচয় পায়; পরে নিজেদের হাতে তৈরি ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’-কেই আবার নেতৃত্বের আসনে ফিরিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত প্যাদানি খায়।
সংগীতশিল্পী আসিফ বলেন, এই চক্রের মধ্যেই চলছে বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা। উচ্চশিক্ষিত ‘চর্বিওয়ালারা’ চু’\রির সব অভিনব কৌশল জানে। আর কাঙালের দল সেই কৌশলের ফাঁদে পড়ে নিজেরাও লোভী হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারাই আবার সেই চোরকে প্রাতিষ্ঠানিক অবয়ব দেয়, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
পোস্টে ইতিহাস ও বর্তমান সময়কে পাশাপাশি দাঁড় করিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন আসিফ আকবর। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তি পেয়েছিল প্রথম সবাক বাংলা চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৩ আগস্টের একটি রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে তুলনা টেনে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন তিনি।
কয়েক দিন আগে দেখা একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে আসিফ লেখেন, সাফ ফুটবলের (SAFF Football) প্রধানও যেন সেই ফ্যাসিস্টেরই প্রতিরূপ। অথচ নির্বাচিত বাফুফে এবং অথর্ব ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ নিয়ে ‘স্পিকটি নট’ অবস্থানে রয়েছে।
তার মতে, সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত হিসাব কষে নিজেদের ‘নতুন নির্বাক ছবির শুটিং’ চালিয়ে যাচ্ছে। এগুলোকে সাধারণ বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং সবকিছুই একই সূত্রে গাঁথা পুরোনো একটি নকশার ধারাবাহিক অংশ।
পোস্টের শেষাংশে আরও কঠোর ভাষায় আসিফ লেখেন, এই দেশের মানুষের আলাদা কোনো শত্রুর প্রয়োজন নেই; নিজেদের বি’\না’\শের জন্য তারা নিজেরাই যথেষ্ট। তার ভাষায়, বিষাক্ত সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্ট এবং তেলের মতো ভেসে থাকা কিছু দালাল গণমাধ্যমই দেশের অভ্যন্তরের সম্মুখসারির শত্রু।
তিনি বলেন, এই সত্য বুঝতে পারলে ভালো, আর না বুঝলেও পরিস্থিতি আগের মতোই থাকবে—তাতে যেন কারও কোনো সমস্যা নেই। শেষ পর্যন্ত প্রাণ দেবে তারুণ্য, দুর্ভোগ বইবে তাদের পরিবার, সুবিধা উপভোগ করবে এলিট শ্রেণি, আর হাততালি দেবে কাঙালের দল। আসিফের তির্যক মন্তব্য, এটাই যেন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়ম।
