মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে মালদ্বীপে বসবাসরত আট বাংলাদেশি নাগরিকের মৃ’\ত্যুর ঘটনায় দেশটিতে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৫ জুলাই থেকে ৩ আগস্টের মধ্যে পৃথক এসব মৃ’\ত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহতদের বয়স ২১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।
মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মৃ’\ত আটজনের মধ্যে চারজন স্ট্রোকে, একজন হৃদ্রোগে, দুজন কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনায় মা’\রা গেছেন। আর অপর একজনের ক্ষেত্রে আত্মহ’\ত্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাইকমিশনের তথ্য বলছে, গত ২৫ জুলাই কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম রোশনের মৃ’\ত্যু হয়। এর দুই দিন পর, ২৭ জুলাই হুমায়ুন কবির (৪৫) স্ট্রোকে মা’\রা যান। পরদিন ২৮ জুলাই একই কারণে মকবুল মিয়া (৪৭) মৃ’\ত্যুবরণ করেন।
৩০ জুলাই ডায়াবেটিসজনিত কারণে স্ট্রোকে শেখ ফরিদের (৪৫) মৃ’\ত্যু হয়। এরপর ১ আগস্ট ঘটে আরও তিনটি মৃ’\ত্যুর ঘটনা। ওই দিন কর্মক্ষেত্রে ভুলবশত বিষাক্ত রাসায়নিক তরল থিনার পান করে ২১ বছর বয়সী সুলাইমান মাতাব্বার মা’\রা যান। একই দিনে স্ট্রোকে মৃ’\ত্যু হয় সৈয়দ মোল্লার (৪৪)।
এ ছাড়া ১ আগস্ট বদিউর রহমান (৩৭) এবং ৩ আগস্ট দেলওয়ারা নবী (৭০) হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃ’\ত্যুবরণ করেন।
মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব মুত্তাসিম বিল্লাহ জানিয়েছেন, নিহত আটজনের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোও দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজেদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মালদ্বীপের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার বিদেশি নাগরিক বসবাস করেন। স্থানীয় জনসংখ্যার তুলনায় দেশটিতে অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এসব বিদেশি নাগরিকের মধ্যে বাংলাদেশিরা অন্যতম বৃহৎ জনগোষ্ঠী।
মালদ্বীপে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীর মতে, পরিবার থেকে দূরে থাকার মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকটের কারণে অনেকের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক আটটি মৃ’\ত্যুর প্রতিটির কারণ আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হচ্ছে।


