চলতি সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী ও তাঁর স্বামী মুশতাক ইবনে আইয়ুবকে ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে নানা আলোচনা ও কটাক্ষ চলছে। এবার সেসব মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন দীপ্তি নিজেই। নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে বেশ খোলামেলা এবং রসিকতাপূর্ণ একটি পোস্টে স্বামীকে নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে দীপ্তি চৌধুরী লেখেন, ‘আমি আমার স্বামীর প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বউ!’
এরপর স্বামীর ভবিষ্যৎ নিয়েও মজার ছলে মন্তব্য করেন তিনি। দীপ্তি লেখেন, ‘আমার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন ভবিষ্যতে আর কোনো বিয়ে করার সম্ভাবনাও তার নেই।’
শুধু বর্তমান দাম্পত্য সম্পর্কের কথা বলেই থামেননি দীপ্তি। কীভাবে তাঁদের পরিচয় এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে হলো, সেই গল্পও নিজের পোস্টে তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বর্ণনায়, পরিচয়ের আগে মুশতাক ইবনে আইয়ুব ‘বিবাগী বিজ্ঞানী’ হিসেবে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
দীপ্তি জানান, পরিচিত-অপরিচিত শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে বিয়ে করানোর জন্য নানা চেষ্টা করেও একসময় হাল ছেড়ে দিতে শুরু করেছিলেন। এরপর নিজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়টিও রসিকতার সুরে তুলে ধরেন উপস্থাপিকা।
দীপ্তির ভাষায়, ‘আমি তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার বৃহৎ মহৎ চিন্তা জগতে ক্ষুদ্র সাংসারিক স্বপ্ন বুনে দেই। ফলে বেচারা বিয়ে নামক জালে স্বেচ্ছায় লাফাতে লাফাতে আটকে গেলেন।’
স্বামীকে নিয়ে দীপ্তির প্রশংসাও ছিল পোস্টজুড়ে বেশ স্পষ্ট। নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কটুক্তি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার এবং ট্রলিং তাঁর স্বামীকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারেনি বলেও জানান তিনি।
মুশতাকের ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে দীপ্তি আরও লেখেন, ‘লোকটা এতো সুন্দর করে পৃথিবীটা দেখে- চারপাশের সকল ক্ষুদ্রতা যেন লজ্জায় তার পায়ের নিচে লুটিয়ে পড়ে। লোকটার আসলে এলেম আছে। নইলে কি আর আমাকে বিয়ে করে/ আমি তাকে বিয়ে করি!’
সব মিলিয়ে দীপ্তির পোস্টে যেমন ছিল সামাজিকমাধ্যমের নানা কটাক্ষের জবাব, তেমনি ছিল স্বামীকে নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও মুগ্ধতার প্রকাশ। রসিকতার আড়ালে নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসী অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, দীপ্তি চৌধুরীর স্বামী মুশতাক ইবনে আইয়ুব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। গত ৫ জুন তাঁদের বিয়ে হয়।
দীপ্তি চৌধুরী এর আগেও নিজের দৃঢ় অবস্থানের কারণে আলোচনায় এসেছেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় চ্যানেল আইয়ের ‘টু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানে একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন তিনি।
ওই অনুষ্ঠানে সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক তাঁকে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন দীপ্তি। একই সময়ে নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’ বলেও পরিচয় দেন তিনি। তাঁর দৃঢ় প্রতিবাদ সে সময় সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পায়।
বর্তমানে চ্যানেল আইয়ের ‘টু দ্য পয়েন্ট’, ‘স্ট্রেইট কাট’সহ একাধিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন দীপ্তি চৌধুরী।
