কম দামে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির ফাঁদ, কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের দুই সদস্য গ্রে’\ফতার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কম দামে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রে’\ফতার করেছে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (Chandpur District Detective Branch)। নড়াইল জেলা থেকে তাদের গ্রে’\ফতার করা হয়।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে প্র’\তার’\ণার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন সিমকার্ড এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রে’\ফতার দুজন হলেন—নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নোয়াগ্রামের মো. হাবিবুর রহমান ওরফে সাজিদ (৪১) এবং চাঁদপুর মধ্যপাড়া এলাকার মো. রকিবুল হাসান নয়ন ওরফে রাব্বী (৩৬)।

পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (Chandpur Superintendent of Police) মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় এবং ডিবি পুলিশের তত্ত্বাবধানে একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নড়াইলের কালিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই চক্রের ওই দুই সদস্যকে গ্রে’\ফতার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্র’\তারক চক্রটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজে ইলিশ মাছসহ নানা পণ্যের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করত। বিশেষ করে তুলনামূলক কম দামে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির প্রচারণা চালিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহী করে তুলত তারা।

পরবর্তী সময়ে পণ্যের অগ্রিম মূল্য হিসেবে ক্রেতাদের কাছ থেকে বিকাশ, নগদ অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হতো। টাকা পাওয়ার পর কোনো পণ্য পাঠানো হতো না। একপর্যায়ে ক্রেতাদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগও বন্ধ করে দিত চক্রের সদস্যরা।

চাঁদপুর মডেল থানা (Chandpur Model Police Station)-তে ভুক্তভোগীদের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং অসংখ্য অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। সেই অনুসন্ধানের একপর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক এই চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রে’\ফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনভিত্তিক এ জা’\লিয়া’\তির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছেন, তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সহযোগীদের গ্রে’\ফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

ঘটনায় গ্রে’\ফতার দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

এদিকে অনলাইনে পণ্য কেনাকাটার সময় কোনো অপরিচিত আইডি কিংবা পেজে অর্থ পাঠানোর আগে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আরও সতর্ক হতে হবে এবং অর্থ লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

অনলাইন প্র’\তারকদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।