সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য ঘিরে নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়ে এবার আরও কয়েকজনের নাম সামনে এনেছেন তাঁর মা নীলা চৌধুরী। বিশেষ করে সামিরার সঙ্গে তাদের কারও কতটা যোগাযোগ ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ডলি জহুর, বাদল খন্দকারসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে নীলা চৌধুরী বলেন, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে তাদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। শুধু জিজ্ঞাসাবাদেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে তদন্তে প্রয়োজন হলে তাদের কাউকে আসামি করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
নীলা চৌধুরীর ভাষ্য, ডলি জহুর ও বাদল খন্দকার অনেক কিছু জানেন। তাদের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য বের করে আনা প্রয়োজন। প্রয়োজন মনে করলে তাদের মধ্য থেকেও কাউকে আসামি করতে পারেন বলেও জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, এদের অনেকেই সালমান শাহকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করেছেন।
এদিকে সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর দায়ের হওয়া হত্যা মামলা ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও আলোচনা তৈরি হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হককে গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সালমানের মা।
গত ১০ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডন হককে আটক করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারে খল অভিনেতা ডিপজল সহায়তা করেছেন বলে জানা যায়। ডিপজলের সঙ্গে সরাসরি কথা না হলেও তাকে মামলায় সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানিয়েছেন নীলা চৌধুরী।
তার মতে, ডনকে অপরাধী মনে না করলে ডিপজল তাকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করতেন না। সালমান শাহর মৃত্যুর সময় চলচ্চিত্র অঙ্গনে ডিপজলসহ আরও অনেকে সক্রিয় ছিলেন। ফলে সেই সময়কার বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে, যা মামলার তদন্তে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে ডনকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করায় ডিপজলকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন সালমানের মা।
চলতি বছরের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ডনের ভোট দেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন নীলা চৌধুরী। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও খল অভিনেতা শিবা শানুর দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি।
নীলা চৌধুরীর প্রশ্ন, একজন হত্যা মামলার আসামি কীভাবে এফডিসিতে এসে ভোট দিতে পারেন? তার অভিযোগ, তাকে অনেকেই সহায়তা করছেন। যারা তাকে সহযোগিতা করছে, তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালতে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।


