আদমজী ইপিজেডে আবারও নারী শ্রমিক অসুস্থ, ‘ভূত’ আতঙ্কের মধ্যে কারখানায় ছুটি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেড (Adamjee EPZ)-এর একটি কারখানায় রোববারও বেশ কয়েকজন নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) ইপিজেডের ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেড (Universal Menswear Limited) কারখানায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে। পরপর শ্রমিকদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় কারখানাটিতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা আবার কাজে ফিরলেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ার পর কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানা কর্তৃপক্ষ দিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।

এদিকে শ্রমিকদের একটি অংশের মধ্যে কারখানায় ‘ভূতের আনাগোনা’ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করে অস্বাভাবিক কোনো কিছুর অস্তিত্ব বা এমন কোনো পরিস্থিতি চোখে পড়েনি, যা শ্রমিকদের অসুস্থতার কারণ হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়। ঠিক কী কারণে একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, সেটিই এখন জানার চেষ্টা চলছে।

কারখানার শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, দুপুরের পর নতুন ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কর্মরত নারী শ্রমিকরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন। সময় যত গড়ায়, অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেই সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে যায়। পরে তাদের বেপজা মেডিকেল হাসপাতাল (BEPZA Medical Hospital)-এ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এর আগে শনিবার সকালে শ্রমিকরা আবার কাজে যোগ দেওয়ার পর শুক্রবারের মতো কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রমিকদের মধ্যে ছোটাছুটি শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে কারখানা কর্তৃপক্ষ সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানাটির এক শ্রমিক বলেন, ‘শুক্রবার এক নারী শ্রমিক কারখানার ভেতরে “ভূত” দেখেছেন বলে দাবি করেন। এরপর তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে একে একে আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’

শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই আতঙ্ক এবং অসুস্থতার ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) বিল্লাল হোসেন (Billal Hossain)। তিনি বলেন, ‘রোববার প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক কাজে এসেছিলেন। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা আজকের জন্য কারখানা ছুটি দিয়ে দিয়েছি।’

শ্রমিকদের ‘ভূত’ দেখার দাবি প্রসঙ্গে বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকরা অনেকে বলছেন, তারা ভূত দেখেছেন। তাদের বলা তো আর বন্ধ করতে পারি না। কিন্তু আমরা যারা সচেতন মানুষ, তারা ভূতের বিষয়টি কীভাবে বিশ্বাস করি? অসুস্থতাও কোনো একটি স্থানে হচ্ছে না, পুরো কারখানার কয়েকটি স্থানে হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, পুরো ইপিজেডের মধ্যে তাদের কারখানায় শ্রমিকদের আরামের কথা বিবেচনা করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এত কিছুর পরও শ্রমিকদের অসুস্থ হয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (BEPZA)-এর আদমজী ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক নাসরিন (Nasrin) জানান, শনিবারও পাঁচ থেকে সাতজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘ইডি স্যারসহ আমরা কারখানাটিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। সকাল থেকেই আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কারখানায় গিয়ে দমবন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা শ্বাসরোধ হওয়ার মতো তেমন কিছু চোখে পড়েনি।’

শ্রমিকদের মধ্যে ‘ভূত’ নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গেও কথা বলেন নাসরিন। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা ভূতের কথা বলছেন। কিন্তু এটা সচেতন মানুষের বোঝার বিষয়। আসলে এর মূল কারণ কী, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি আমরা।’

পরপর কয়েক দফায় শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়া এবং তা ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববারও কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে শ্রমিকদের অসুস্থতার পেছনে প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।