টলিউডের নির্মাতা সৃজিত মুখোপাধ্যায় (Srijit Mukherji) ও বাংলাদেশি অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা (Rafiath Rashid Mithila)-র সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সময়ে তাদের দাম্পত্য নিয়ে নানা গুঞ্জন সামনে এসেছে। এবার নিজের জীবনে ‘স্টেবল পার্টনারশিপ’ বা স্থায়ী সঙ্গীর অভাব অনুভব করার কথা জানিয়েছেন সৃজিত। তার এই মন্তব্যের পর মিথিলার সঙ্গে তার সম্পর্কের বর্তমান সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের টকশো ‘স্ট্রেইট আপ উইথ শ্রী’-তে অতিথি হয়ে ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সৃজিত। আলোচনায় উঠে আসে তার অতীতের সম্পর্ক, সাবেক প্রেমিকাদের সঙ্গে বর্তমান যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনের একাকিত্বের প্রসঙ্গও। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে একজন স্থায়ী সঙ্গীর অভাব তিনি অনুভব করেন।
সৃজিত ও মিথিলার বিয়ের প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরেই তাদের একসঙ্গে সংসার করা এবং দাম্পত্যের পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। গত কয়েক বছরেও একাধিকবার তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এর মধ্যেই সৃজিতের মুখে ‘স্থায়ী সঙ্গী’ না থাকার অনুভূতির কথা সামনে আসায় পুরোনো সেই জল্পনা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
যদিও ওই মন্তব্যে সরাসরি মিথিলার নাম নেননি সৃজিত। একইভাবে সৃজিত কিংবা মিথিলা—কেউই তাদের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুন করে কোনো ঘোষণা দেননি। ফলে তাদের দাম্পত্য নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আপাতত পুরো বিষয়টি সৃজিতের মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা ও জল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে নিজের সাবেক প্রেমিকাদের প্রসঙ্গও এড়িয়ে যাননি সৃজিত। সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও তাদের কারও কারও সঙ্গে এখনো সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee) এবং ঋতাভরী চক্রবর্তী (Ritabhari Chakraborty)-র সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও তাদের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান এই নির্মাতা।
কথোপকথনে উঠে আসে সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায় (Sushmita Chatterjee)-র প্রসঙ্গও। সৃজিত জানান, একটা সময়ে সুস্মিতা তার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, সব সম্পর্ককে একটি নির্দিষ্ট লেবেলের মধ্যে ফেলা যায় না।
সময়ের সঙ্গে সুস্মিতার সঙ্গে সেই ঘনিষ্ঠতা কমে গেছে বলেও জানান সৃজিত। তবে দূরত্ব তৈরি হলেও দুজনের মধ্যে শুভকামনার সম্পর্ক এখনো রয়েছে। তার কথায়, তারা এখনো একে অপরের শুভাকাঙ্ক্ষী।
নিজের জীবনের সম্পর্কগুলো বোঝাতে একটি যাত্রার উপমাও দেন সৃজিত। তার ভাষায়, জীবন অনেকটা একটি যাত্রার মতো—যেখানে অনেকে কয়েকটি স্টেশন পর্যন্ত সঙ্গে থাকেন, এরপর নিজের গন্তব্যে ট্রেন থেকে নেমে যান। সুস্মিতাও তেমনই একসময় নেমে গেছেন; হয়তো এরপর তিনি অন্য কোনো ট্রেনে উঠে নিজের পথে এগিয়ে গেছেন।


