রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গাড়িবহরে ঢুকে তার চলন্ত বুলেটপ্রুফ গাড়িতে স্কচটেপ দিয়ে একটি সাদা খাম লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার একটি রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার কয়েক দিন পার হলেও ওই মোটরসাইকেল আরোহীকে এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে তারেক রহমান তার কার্যালয় থেকে গাড়িতে করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় গুলশানের ৬৫ নম্বর সড়কে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে আসা ব্যক্তি হঠাৎ করে তার গাড়িবহরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ওই ব্যক্তি দ্রুত তার চলন্ত বুলেটপ্রুফ গাড়ির গায়ে স্কচটেপ দিয়ে একটি সাদা খাম সেঁটে দিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তখন গাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান।
এই ঘটনার পর গাড়িবহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে গুলশান থানা-পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তদন্ত শুরু করে।
এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম জানান, একটি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে এসে বিএনপি চেয়ারম্যানের বুলেটপ্রুফ গাড়ির পাশে গিয়ে শুধু স্কচটেপ দিয়ে একটি খাম লাগিয়ে দ্রুত চলে যায়। কী উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফুটেজে দেখা যায়, সাদা রঙের হিরো হাংক মডেলের একটি মোটরসাইকেলে একজন আরোহী ছিলেন। তিনি ৬৫ নম্বর সড়কে তারেক রহমানের গাড়ির কাছে এসে গতি কমান, খামটি লাগান এবং পরে আমেরিকান ক্লাবের দিকে চলে যান। তবে ফুটেজের মান স্পষ্ট না হওয়ায় ওই আরোহীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সময় গাড়িবহরের সঙ্গে বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা ইউনিট সিএসএফ (চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স) উপস্থিত ছিল। তবে এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কোনো জিডি করা হয়নি। পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে তারা নিজেরাই আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রওনক আলম বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। খামের ভেতরে কী ছিল বা সেখানে কী লেখা ছিল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো অবগত নয়। খামটি বর্তমানে সিএসএফের হেফাজতে রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেল ও আরোহীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


